ডেস্ক নিউজ : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর এক টেকনিশিয়ানের শুয়ে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হলে ওই টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে এক রোগীর স্বজন মো. আব্দুল হামিদ তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে সিটিস্ক্যান কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মীকে মেশিনের উপর শুয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বুকের সিটিস্ক্যান করতে পারবেন না বলেও জানান বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রবিবার রোগীর চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন করা হয়। রবিবার সকাল ১০টা ৪ মিনিটে আব্দুল হামিদ ফেসবুকে আরেকটি ভিডিও আপলোড করে জানান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র টেকনোলজিস্ট শাহ জালাল শাহিন বলেন, শনিবারের ঘটনায় রোগীর স্বজন চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই বুকের সিটিস্ক্যান করতে এসেছিলেন। পরে রবিবার চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে আসার পর পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
তিনি বলেন, সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর যিনি শুয়ে ছিলেন তার নাম ইসমাইল হোসেন। তিনি সিনিয়র টেকনিশিয়ান। মূলত তিনি রোগীর স্বজনকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে ভুল করেছেন। তবে মেশিনের ওপর শুয়ে থাকাটাও ঠিক হয়নি।
হাসপাতালের মুখপাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মাজাহারুল রেজওয়ান রেজা বলেন, হাসপাতালে মূলত মাথার সিটিস্ক্যান করা হয়। বুকের এইচআরসিটি করা হয় না। এ ধরনের পরীক্ষা করলে মেশিনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে সেটি বিকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর ঘুমানোর বিষয়টি অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, সিটিস্ক্যান রুম ঘুমানোর জায়গা নয়। অবশ্যই ওই টেকনিশিয়ান অপরাধ করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার ওই টেকনিশিয়ানকে অফিশিয়ালি শোকজ করা হয়েছে। এর আগেই প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/০৬ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১২:২৯