রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে তৈরি পোশাকও থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কই এ অংশীদারত্বের অন্যতম ভিত্তি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত থেকে শুরু করে ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ভূমিকা রাখছে এবং উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্যের মূল লক্ষ্য হলো এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করা। যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমকে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধার ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নিরাপত্তা অংশীদারত্ব। পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। কৌশলগতভাবে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়টিও যুক্তরাজ্য স্বীকার করে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে দুই দেশ। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, এ সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং একমাত্র টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সমাধান হলো পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জ, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ অভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালোভাবে খুব কম দেশই বোঝে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের মানুষের কাছে আর কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এর প্রভাব ইতোমধ্যেই অনুভব করছে এবং এর প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে থাকবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৪ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit