শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভারত ৪-০ গোলে হারলেও মুগ্ধ দর্শকরা ‘নিজ বাসভবনের ছাদের সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’ পিটিআই ঠেকাতে পাকিস্তানের রাজধানী এখন ‘কনটেইনারাবাদ’! স্বর্ণের দাম কমবে না বাড়বে, যা বলছে পূর্বাভাস ইরান যুদ্ধে চীনের নীরব উপস্থিতি, বদলে যাচ্ছে সমীকরণ কুমিল্লায় রতন গ্যাংয়ের প্রধানসহ শীর্ষ ৪ কিশোর গ্যাং লিডার গ্রেফতার নোয়াখালীতে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই নতুন স্বাভাবিক অবস্থা: অর্থমন্ত্রী সালাহউদ্দীন সুমন পেলেন বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর পুরস্কার গাড়ি দেখলেই সালাম দেওয়া পথশিশুদের খাওয়ালেন প্রধানমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতির অজুহাতে ঋণের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া কি জায়েজ?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ Time View

ডেস্ক নিউজ : প্রশ্ন

কাউকে ঋণ দেওয়া হলে, যেহেতু সুদ হারাম, তাই মূল্যস্ফীতির কারণে ঋণদাতার আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? যেমন, আজ যদি কাউকে ১ লাখ টাকা ঋণ দিই, তাহলে পাঁচ মাস পর ওই টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে ঋণদাতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ ক্ষেত্রে ঋণদাতা কি অতিরিক্ত অর্থ নিতে পারবেন?

উত্তর

ঢাকার পল্লবীর জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়ার মুফতি মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম বলেন, ঋণের মূলনীতি হলো, ঋণদাতা যত টাকা দিয়েছেন, ঋণগ্রহীতা তত টাকাই ফেরত দেবেন। ঋণের কারণে পূর্বশর্ত, চুক্তি বা প্রচলিত বোঝাপড়ার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়া জায়েজ নয়।

সুতরাং আজ ১ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে পাঁচ মাস পর ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বা কম-বেশি ফেরত দেওয়ার শর্ত করা হলে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা মূল্যস্ফীতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্ধারণ করা হলে, তা ঋণের বিনিময়ে শর্তযুক্ত অতিরিক্ত অর্থ এবং সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলেও এভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই।

মূল্যস্ফীতি থেকে সম্পদের মূল্য সংরক্ষণ করতে চাইলে হালাল ব্যবসা-বাণিজ্য বা শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের পথ অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে বিনিয়োগে লাভের পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও গ্রহণ করতে হবে। নিজের মূলধন শতভাগ নিরাপদ রেখে তার ওপর মূল্যস্ফীতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিশ্চিত অতিরিক্ত লাভ গ্রহণের ব্যবস্থা করা যাবে না।

তবে ঋণগ্রহীতা যদি কোনো পূর্বশর্ত, চুক্তি, ইঙ্গিত বা প্রচলিত বোঝাপড়া ছাড়াই নিজের ইচ্ছায় কিছু বেশি পরিশোধ করেন, তাহলে তা জায়েজ। বরং উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করা প্রশংসনীয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের সময় তার পাওনার চেয়ে উত্তম উট দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন—

«أَعْطُوهُ فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنَكُمْ قَضَاءً»

‘তাকে সেটিই দিয়ে দাও। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি হলো, যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।’ —সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬০১।

অর্থাৎ, ঋণগ্রহীতা নিজের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কিছু দিলে তা হুসনে কাযার (উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু ঋণ দেওয়ার সময় সেটি শর্ত করা বা প্রত্যাশা করা যাবে না।

এ ছাড়া ঋণ দেওয়া মূলত মানুষের প্রয়োজন পূরণ ও সহযোগিতার একটি উত্তম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

«وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ»

‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতায় থাকেন।’ —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯।

অতএব, ঋণের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা; মূল্যস্ফীতিকে অজুহাত করে ঋণের ওপর পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা নয়। আর সম্পদের মূল্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে ঋণের পরিবর্তে শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সারকথা: ১ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে পাঁচ মাস পর মূল্যস্ফীতির কারণে পূর্বনির্ধারিতভাবে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বা কম-বেশি নেওয়া জায়েজ নয়। তবে কোনো পূর্বশর্ত বা বোঝাপড়া ছাড়া ঋণগ্রহীতা স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত কিছু দিলে তা গ্রহণ করা জায়েজ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit