আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য অন্তত একটি স্থায়ী আসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনও স্থায়ী আসন না থাকা ‘অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য’।
গুতেরেসের এ বক্তব্যের সময় অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত বিশ্বনেতারা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
তিনি বলেন, “আফ্রিকার কোনও স্থায়ী আসন ছাড়া ২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদ অন্যায্য এবং এর পক্ষে কোনও যুক্তি নেই।”
এরপর তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।”
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাস্তবতায় আটকে আছে কাঠামো?
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, পরিষদটি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রতিফলিত করে। সেই সময় আফ্রিকার বড় একটি অংশ ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় গড়ে ওঠা এই কাঠামোতেই দেশগুলো স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে।
এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকটিরই ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদে কোনও প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে তাদের যেকোনও একটি দেশের আপত্তি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আটকে দিতে পারে।
অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের ১০টি অস্থায়ী সদস্যপদ বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এসব সদস্য নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মতো ভেটো ক্ষমতা তাদের নেই।
আফ্রিকান ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের দাবি
নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)। আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সংগঠনটি নিরাপত্তা পরিষদে মহাদেশটির জন্য দুটি স্থায়ী আসন এবং আরও দুটি অস্থায়ী আসন চেয়ে আসছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের অবস্থান হলো, বর্তমান পরিষদে মহাদেশটির রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত গুরুত্ব যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ এই কাঠামোয় আফ্রিকার আরও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে তারা।
গুতেরেসের বক্তব্যে সেই দাবিরই প্রতিধ্বনি শোনা গেল।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের চাপ
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো সংস্কারের দাবি শুধু আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাপান, জার্মানি, ভারত ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে স্থায়ী সদস্য বাড়ানো, নতুন সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না এবং কোন দেশ বা অঞ্চল কতটি আসন পাবে- এসব বিষয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে।
গুতেরেসের বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হলো, জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্ব ও কাঠামো নিয়ে সংস্কারের দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি এখন জাতিসংঘের সংস্কার আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সূত্র: বিবিসি
কিউএনবি/অনিমা/২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১০:৪০