বিনোদন ডেস্ক : আগামী ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে আসছে মালয়ালম সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় হিন্দি রিমেকের তৃতীয় কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩’। এক্ষেত্রে সিনেমার গল্পে ২ অক্টোবর শুধু একটি তারিখ নয়, বরং পুরো কাহিনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বিশেষ তারিখকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে সিনেমার রহস্য ও উত্তেজনা।
অজয় দেবগণের ‘দৃশ্যম’ ও ‘দৃশ্যম ২’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সম্প্রীতি ছবিটির পরিচালক অভিষেক পাঠক তৃতীয় কিস্তির শেষ মুহূর্তে এসে বড় চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন। কীভাবে জয়দীপ আহলাওয়াত সেই অভিনেতার স্থলাভিষিক্ত হন এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই চিত্রনাট্যের কিছু অংশ নতুন করে লেখা হয় তাও উঠে এসেছে।
শুটিং শুরুর মাত্র সাত দিন আগে অক্ষয় খান্না তৃতীয় কিস্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরিচালক ও লেখক অভিষেক পাঠক সম্প্রতি স্মৃতিচারণ করেছেন কীভাবে তার দল খান্নাকে (অভিনেতা) প্রতিস্থাপন করতে, চিত্রনাট্যের কিছু অংশ নতুন করে লিখতে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী শুটিং শুরু করতে সক্ষম হয়েছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাতাদের সাথে সৃজনশীল ও আর্থিক মতপার্থক্যের জেরে খান্নার সরে দাঁড়ানোর প্রকাশ্যে এসেছিল। পাঠকের মতে, বিষয়টি নিয়ে পুরো দল অসন্তুষ্ট থাকলেও তারা শুটিং পিছিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঠক বলেন, আমি ঠিক আতঙ্কিত হওয়ার কথা বলব না, তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা খুশি ছিলাম না। আমার মনে হয়েছিল, ‘এ কেমন পদ্ধতি?
কয়েক দিনের মধ্যেই খান্নার জায়গায় জয়দীপ আহলাওয়াতকে নিয়ে আসা হয়। পাঠক জানান, এই পরিবর্তনের ফলে আহলাওয়াতকে দিয়ে বিদ্যমান চরিত্রটি অভিনয় করানোর পরিবর্তে তাকে চরিত্রটি নতুন করে লিখতে হয়েছিল। এই চলচ্চিত্র নির্মাতা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি তাকে ফোন করি এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন কাস্টিং পরিবর্তন নাকি চরিত্র পরিবর্তন? আমি তাকে জানাই আমি চরিত্রটিই বদলে ফেলছি।
এরপর তিনি চিত্রনাট্যটি পড়েন এবং বেশ উপভোগ করেন। পুরো ঘটনাটি ৫-৬ দিনের মধ্যেই ঘটেছিল। পাঠক জানান, শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল এই প্রযোজনার ওপর ২০০ জনেরও বেশি মানুষের জীবিকা নির্ভর করা। তিনি বলেন, সেট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমরা তা বাতিল করতে পারিনি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, চিত্রগ্রাহক, প্রোডাকশন ডিজাইনার, লাইটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং স্পট বয়সহ কলাকুশলীরা ইতোমধ্যেই এই প্রজেক্টের জন্য সময় বরাদ্দ করে রেখেছিলেন।
এছাড়া সিনেমার অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীদের সময়সূচি বা তারিখ নতুন করে সমন্বয় করার জটিলতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এরা সবাই বড় মাপের অভিনেতা। আমি হুট করে তাদের বলতে পারি না, আমাকে পরে সময় দিন। তাদের হাতে আরও বড় বড় সিনেমার কাজ রয়েছে।
পরিস্থিতি বুঝতে পাঠক শুরুতে দুই-তিন দিন সময় চেয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিবর্তনগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব কি না। শেষ পর্যন্ত দলটি শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নেয়। আহলাওয়াতের চরিত্রের সূচনা বা এন্ট্রির দৃশ্যটি প্রথমে গোয়ায় শুট করা হয়েছিল, কিন্তু পরে মুম্বাইতে সেটি পুনরায় শুট করা হয়। কারণ পাঠকের মনে হয়েছিল দৃশ্যটি আরও ভালো করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দৃশ্যটি একেবারে শেষ মুহূর্তে লেখা হয়েছিল এবং আমার মনে হয়েছিল এটি আরও ভালো হতে পারত। পাঠকের মতে, দ্রুত পরিবর্তনগুলো করার চাপ ছিল, তা শেষ পর্যন্ত আহলাওয়াতের চরিত্রটিকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। পরিচালক বলেন, শেষ মুহূর্তের সেই চাপই চরিত্রটিকে সুন্দর করে তুলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে থাকা প্রত্যাশার মধ্যে কাজ করাটা পরিস্থিতিকে বিশেষভাবেই চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছিল।
‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ এই আনুষ্ঠানিক শিরোনামের তৃতীয় চলচ্চিত্রটিতে বিজয় সালগাওনকার চরিত্রে ফিরে আসছেন অজয় দেবগন। তার সাথে থাকছেন টাবু, শ্রেয়া সরণ, রজত কাপুর, ঈশিতা দত্ত, মৃণাল যাদব ও কমলেশ সাওয়ান্ত।অভিনয়শিল্পীদের দলে প্রকাশ রাজ ও সৌরভ শুক্লার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন আহলাওয়াত।
কিউএনবি/অনিমা/২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:২৭