শার্শা(যশোর)প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার নিসিদ্ধ যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন(৫৬)কে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯ টার দিকে হাতিরঝির থানার একটি দল তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিসিদ্ধ যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনকে আটকের বিষয়টি ঢাকার হাতিরঝিল থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান ও শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শামিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক সোহরাব হোসেন শার্শা উপজেলার উত্তর বুরুজবাগান গ্রামের মৃত আব্দুস সোহবানের ছেলে। তারা জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, যশোরের শার্শা উপজেলার নিসিদ্ধ যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থান করছ্নে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আটক সোহরাব হোসেন শার্শা উপজেলার নিষিদ্ধ যুবলীগের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের যশোর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের রাজনৈতিক ক্যাডার হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে তার। বিগত আওয়ামীলীগের আমলে বেনাপোল পৌর সভার মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে ভোট ঢাকাতির জন্য র্যাবের হাতে বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ আটক হয় এই সোহরাব হোসেন। তার বিরুদ্ধে র্যাবের দেওয়া অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সোহরাব হোসেনের আটকের খবরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে ।
স্থানীয়রা আরও জানান, ক্ষমতাচুত্য আওয়ামীলীগ সরকারের আমলের দেড় দশকে শার্শা উপজেলার ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদেও মধ্যে অন্যতম ছিলেন যুবলীগৈর এই নেতা। গত দেড় দশকে সোহরাব হোসেন জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। মালিক হয়েছেন শত কোটি টাকার। গোল্ড, মাদক, অস্ত্র , চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী করে কামিয়েছেন অর্থ। বিগত ৫ আগষ্টের পর পালিয়ে ছিলেন সোহরাব হোসেন। থাকতেন ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায়। চড়ে বেড়াতের কোটি টাকার গাড়ি। যোগাযোগ রাখতেন শার্শার নেতা কর্মিদের সাথে। তার আটকের খবরে শার্শার অনেক নেতা কর্মি গা ঢাকা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের শার্শা উপজেলার সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে আটক হয়েছে। সেখানে আইন প্রক্রিয়া শেষ হলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে শার্শায় নিয়ে আসবো। এরপর রিমান্ডের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সকল অপকর্মের তথ্য প্রমানাদি বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫৪