বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘গার্লস’-এর স্রষ্টা, খ্যাতিমান লেখিকা ও অভিনেত্রী লেনা ডানহাম এবং তার স্বামী লুইস ফেলবার সারোগেসি অর্থাৎ গর্ভভাড়া প্রথার মাধ্যমে তাদের প্রথম কন্যাসন্তানকে পৃথিবীতে স্বাগত জানিয়েছেন। মাতৃত্বের এই অসীম আনন্দ ও দীর্ঘ সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বুধবার ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ডানহাম নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, নতুন এক অপার্থিব আনন্দে তিনি এখন শিহরিত ও আত্মহারা।
বর্তমানে ৪০ বছর বয়সী লেনা ডানহাম বহু বছর ধরেই তার বন্ধ্যাত্ব, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা এবং মাতৃত্বের স্বপ্ন নিয়ে প্রকাশ্যে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। মাত্র ৩১ বছর বয়সে শারীরিক জটিলতার কারণে তার জরায়ু অপসারণ (হিস্টেরেক্টোমি) করতে হয়, যা তার মা হওয়ার স্বাভাবিক স্বপ্নকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।
ভোগ ম্যাগাজিনে সারোগেট মায়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আবেগঘন ভাষায় জানান, সাধারণত বিমানবন্দরে বা পশুচিকিৎসকের চেম্বারে নতুনদের সঙ্গে খুব দ্রুত বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার একটি পরিচিতি রয়েছে। তবে এবারই প্রথম কফি পানের আড্ডা থেকে শুরু করে এত দ্রুত একটি স্ত্রীরোগসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার দিকে তিনি এবং সেই নারী অগ্রসর হয়েছেন, যা তার জীবনে আগে কখনো ঘটেনি।
সন্তানের জন্মমুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে লেনা ডানহাম জানান, পূর্ণ সময় পার হওয়ার ১৩ দিন পর এক সূর্যগ্রহণ ও উল্কাপাতের আবহ তৈরি করে তার মেয়ে পৃথিবীতে পদার্পণ করে। তিনি লিখেছেন, হাসপাতালের বিছানায় যে নারীর পায়ের কাছে তিনি বসেছিলেন, মাত্র এক বছর আগেও তাকে চিনতেন না। অধীর অপেক্ষার পর অবশেষে যখন সদ্যোজাতের প্রথম কান্না শুনতে পান, তখনই চোখ নিচে নামে তার। মেয়ের মুখটি প্রথমবার দেখার সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানান, তার নিজের মতোই তার নতুন অতিথিও যেন প্রথমবার নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছিল। একদৃষ্টিতে অস্পষ্ট চোখে চারপাশের আলো-ছায়া দেখে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলছিল শিশুটি।
নিজের এন্ডোমেট্রিওসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক জীবন গঠনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ডানহাম দীর্ঘকাল ধরে লেখালেখি করছেন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত তার স্মারকগ্রন্থ ‘ফেমসিক’-এ তিনি উল্লেখ করেছিলেন, যেদিন তিনি স্বাভাবিকভাবে মা হওয়ার ক্ষমতা হারান, ঠিক সেদিন থেকেই এক সন্তানের খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। করোনা মহামারির তীব্র সংকটের মধ্যে নিজের ডিম্বাণু সংগ্রহের কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, সে সময় সোফায় শুয়ে একদিন দত্তক নেওয়ার কথা ভাবতেন, তো পরের দিনই সারোগেটের খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। একদিন মনে হতো সন্তান না থাকলেও তিনি ভালো থাকবেন, আবার পরদিনই মনে হতো সন্তান না থাকলে তার পুরো জীবনটাই ব্যর্থ।
এই দীর্ঘ ও অনিশ্চিত পথপরিক্রমার বহু বছর পর, গত ২০২৫ সালের জুন মাসে দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডানহাম জানিয়েছিলেন, তিনি ও তার স্বামী লুইস ফেলবার এক নতুন উপায়ে পরিবার বাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সে সময় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। সে সময় তিনি কেবল এটুকুই বলেছিলেন, নিরাপদে সন্তানের সঙ্গে দেখা করার পর সঠিক সময়ে তিনি এ নিয়ে কথা বলবেন।
এরও আগে, ২০২০ সালে হার্পারস ম্যাগাজিনে লেখা এক নিবন্ধে নিজের এই মানসিক উত্তরণের কথা ফুটিয়ে তুলেছিলেন এই তারকা। তিনি লিখেছিলেন, কখনোই নিজে গর্ভধারণ করে মা হতে পারবেন না—এই কঠিন সত্য মেনে নেওয়া এবং সামনে এগিয়ে যেতে পারাই হয়তো কোনো সন্তানের অভিভাবক হওয়ার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। অবশেষে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, একজন নতুন মানুষকে শেখানোর মতো অনেক মূল্যবান অভিজ্ঞতা এখন তার ঝুলিতে জমা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
কিউএনবি/অনিমা/১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১:৫৭