সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন

বেতন বাড়ছে এক মিলিয়ন ডলার, বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী নেতার নতুন আয় কত

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪২ Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স অং এর আয় এবার আরও বাড়ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩.৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। অর্থাৎ এক লাফে বাড়ছে ৬০ শতাংশেরও বেশি। তবে বাড়তি এই অর্থ নিজের জন্য রাখবেন না বলে জানিয়েছেন অং। আগামী পাঁচ বছর পুরো অতিরিক্ত অর্থ দাতব্য কাজে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।সিঙ্গাপুর সরকার শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, মন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের যুক্তি, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো প্রয়োজন। লরেন্স অং এর বর্তমান বার্ষিক বেতন ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা বেড়ে হবে ৩.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, যা প্রায় ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সিঙ্গাপুরে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। ফলে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটিতে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার লরেন্স অং নিজেও স্বীকার করেছেন, সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বিশাল বেতন নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সিঙ্গাপুরে একজন সাধারণ নাগরিকের গড় মাসিক আয় প্রায় ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার।

তবে অং-এর যুক্তি, উচ্চ বেতন না থাকলে সফল ব্যবসায়ী, দক্ষ পেশাজীবী ও শীর্ষ পর্যায়ের আমলাদের রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী করানো কঠিন হয়ে পড়ে। বেসরকারি খাতের সমপরিমাণ আয় সরকার দিতে না পারলেও, ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় ছেড়ে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে অর্থ যেন বড় বাধা না হয়, সে লক্ষ্যেই এই বেতন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীদের মূল বার্ষিক বেতন ১.১ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন পরিকল্পনায় তা বেড়ে হবে ১.২ মিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে পারফরম্যান্স বোনাস যুক্ত হয়ে অধিকাংশ মন্ত্রী মেয়াদ শেষে প্রায় ১.৩৫ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। এই বোনাসের পরিমাণ নির্ধারণে দেশের বেকারত্বের হার কমানো, মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

বেতন বৃদ্ধির পরও বিশ্বের অন্য ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ নেতাদের তুলনায় লরেন্স অং-এর পারিশ্রমিকের ব্যবধান থাকবে বেশ বড়। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লির বার্ষিক আয় প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার। সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন পান প্রায় ৬ লাখ ৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক বেতন ৪ লাখ ডলার এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের আয় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

সিঙ্গাপুরের ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) দেশটির স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতায়। মন্ত্রীদের উচ্চ বেতন দীর্ঘদিন ধরেই দলটির অন্যতম সমালোচনার বিষয়। ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বেতন কাঠামো ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রভাব পড়ে পিএপির ভোটে। কয়েক দশকের মধ্যে সে সময় দলটি সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছিল। এর পরের বছর সরকার মন্ত্রীদের বেতন কমিয়ে দেয়।

তবে সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীদের বেশি বেতন দেওয়ার পেছনে দুর্নীতি কমানোর যুক্তিও বহুদিন ধরে দিয়ে আসছে সরকার। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে সিঙ্গাপুর নিয়মিতভাবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে থাকাকে নিজেদের উচ্চ বেতন কাঠামোর সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে দেশটির সরকার। লরেন্স অং অবশ্য এই পথে প্রথম নন। তার পূর্বসূরি লি সিয়েন লুংও ২০০৭ সালে বেতন বৃদ্ধির পর অতিরিক্ত অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এদিকে নতুন বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অনলাইনে অনেকে এটিকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রশ্ন, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তখন শীর্ষ কর্মকর্তাদের এত বড় বেতন বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক। সরকারি পরিসংখ্যানেও শ্রমবাজারের চাপের ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটিতে গত প্রান্তিকে কর্মী ছাঁটাইয়ের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে সিদ্ধান্তটির পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেশের সবচেয়ে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের আনতে হলে বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম এমন আর্থিক সুবিধা রাখা জরুরি। ফলে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সিঙ্গাপুর সরকার তার বিদ্যমান নীতির পক্ষেই অবস্থান ধরে রেখেছে।

তথ্য সূত্র- বিবিসি।

কিউএনবি/অনিমা/০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ১১:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit