আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, ‘থান্ডারবোল্ট’ অভিযানের ২৯তম পর্যায়ে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর রাডার স্থাপনা ও সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে বড় আকারের ‘কামিকাজে’ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, বুধবার ভোরে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস জর্ডানে অবস্থিত ‘ক্যাম্প টিটিন’ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ ঘাঁটিটি আকাবা উপসাগরের তীরে, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
আইআরজিসির তথ্যমতে, এই হামলায় বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ‘ইয়া রাসুল আল্লাহ’ সাংকেতিক নামের অধীনে প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হয়। অন্যদিবে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দিনের শুরুর দিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।
তাসনিম ও ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এদিকে মার্কিন সংবাদ ওয়েবসাইট ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদক বারাক রাভিদ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের বাহিনী উত্তর ইরাকের ইরবিল প্রদেশে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামবাহী গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ঘাঁটিতে থাকা জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মী নিহত হওয়ার দাবিও তারা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, মেহের নিউজ এজেন্সি।
কিউএনবি/অনিমা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ৮:১২