মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না: দীনেশ ত্রিবেদী

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : কেন কি যদি আমরা পাস্টে যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ও নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দেশের মানুষের জন্য কী ভালো, তা সবচেয়ে ভালো বোঝে। 

প্রবাসীনেটওয়ার্কে যোগদিন

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর যা ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) হয়, ওতে আমরা কিছু বলতে চাই না, আর আমাদের কোনো কথা বলা উচিতও না। কেন কি যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, যা দেশের ইলেক্টেড গভর্মেন্ট উইথ মেজরিটি, যা ওরা ভালো বুঝবে যে লোকেদের জন্য কী ভালো, ওইটাই সত্যি কথা।

ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে তার অবস্থান ও দুই দেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ, ওইটা সব সময়… আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে একই জিনিস। আপনারও যা প্রতিনিধি ওখানে দিল্লিতে আছে, উনিও একটাই কথা চায় যে, পিপল-টু-পিপল কীভাবে আমরা…

তিনি বলেন, কেন কি আলটিমেটলি কী হয়? আমরা যা ডিসিশন নিই, ওর ইফেক্ট তো হয় সাধারণ মানুষের। তাহলে সাধারণ মানুষের যা কিছু ভালো হয়, ওইটা আমাদের দায়িত্ব আছে। ইট ইজ আওয়ার রেসপন্সিবিলিটি। যে আমরা যা ডিসিশন নিই… আর আমরা তো সব সময় বলি যে আমরা তো একটা ড্রিম শেয়ার করি, স্বপ্ন শেয়ার করি।

দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ এ নেইবার, আর আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সব সময় বলি, উই আর ইকুয়াল। নো বডি ইজ বিগ, নো বডি ইজ স্মল।

বাংলাদেশে এসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার কথাও জানান তিনি। 

প্রবাসীনেটওয়ার্কে যোগদিন

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি অনেক কিছু এখানটায় এসে শিখছি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের… আমি ছিলাম অল্প, ৩০ মিনিট বোধহয়। এই ৩০ মিনিটে তো আমি অনেক শিখেছি। কেন কি উনার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে, আর কেন? মানুষের জন্য, ঠিক তো? তাহলে এর কোনো শেষ নেই।

বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আর চ্যালেঞ্জেস থাকবে। আমাদের এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে বাংলাদেশের কী ডেমোক্রেটিক চ্যালেঞ্জেস। বাংলাদেশকেও এপ্রিশিয়েট করতে হবে যে ইন্ডিয়ার কী চ্যালেঞ্জেস। ওই চ্যালেঞ্জেসটা আমাদের মাথায় রেখে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

অতীতে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন কি যদি আমরা পাস্টে যদি আমরা আটকে যাই… পাস্ট আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু আটকে যাওয়ার তো কোনো জায়গা নেই। আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।

দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আর এটাও আজকে কথা হলো যে, মানুষ-মানুষের জন্য ট্রেড, ফ্রি ট্রেড। কীভাবে আমরা দুই দেশে ফ্রি ট্রেড করতে পারি? ডিপেন্ডেন্সি কিংবা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি ফ্রি ট্রেড… উনি বললেন না, এটা ফ্রি ট্রেড। তাহলে এই নিয়েও কথা হয়েছে।

এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে সৌজন্য সাক্ষাতে আসার কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় দূত তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, উনি সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আজকে পহেলা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নিয়ে একটা আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি (দীনেশ ত্রিবেদী) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, উনি এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।

তিনি আরও বলেন, লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি যে, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আরকি।

কিউএনবি/অনিমা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৩:৩৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit