আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যকে সবার জন্য একটি নিরাপদ ও শান্ত অঞ্চলে পরিণত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল থেকে পুরোপুরি বিতাড়িত করতে চায় ইরান।
তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খশচেশম আল জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে ডাক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দিয়েছেন, তা মূলত তেহরানের দীর্ঘদিনের পুরোনো নীতিরই প্রতিফলন। তিনি অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাই তেহরান চায় উপসাগরীয় দেশগুলো যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
অধ্যাপক খশচেশম সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেয়, তবে মার্কিনিরা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামত করে আবারও তেহরানের ওপর হামলা চালাবে। তাই অঞ্চলটিকে শান্তিপূর্ণ করতে আমেরিকানদের এখান থেকে বের করে দেওয়াই ইরানের মূল লক্ষ্য।
এদিকে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই চাপের মুখেও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নুরি। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে তিনি জানান, নৌ অবরোধের কারণে পরিবহনগত বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের খাদ্য সরবরাহ একদম স্থিতিশীল।
ইরানের কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত খাদ্যের মজুত ক্রমশ বাড়ছে এবং এখন পর্যন্ত জরুরি কোনো মজুত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি। মূলত দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির কারণেই আমদানিনির্ভরতা কমেছে। কৃষিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কোনো বিদেশি নিষেধাজ্ঞা জনগণের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারবে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
কিউএনবি/অনিমা/৩১ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ১০:৪৪