রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

শিক্ষকের বুদ্ধিমত্তায় যেভাবে বেঁচে যায় ১,৬৪৩ শিশুর প্রাণ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে চোখের পলকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে ১,৬৪৩ জন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর জীবন রক্ষা করেছেন এক প্রধান শিক্ষক। তার বুদ্ধিমত্তা আর দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই শিশুরা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এই ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নোয়াকোট এলাকার ত্রিভুবন ত্রিশূলী স্কুলে।

ঘটনার দিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদিকে এক বন্ধু ফোন করে জানান, পাহাড়ি নদীর পানিতে পাশের একটি গ্রাম ভেসে গেছে। বন্ধুটি তাকে দ্রুত পালিয়ে যেতে বলেন। প্রথমে রাজেন্দ্র ভেবেছিলেন নদী থেকে বেশ উঁচুতে থাকা তাদের শক্ত তিনতলা স্কুল ভবনটি নিরাপদেই থাকবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই এক অভিভাবক এসে নদীর পানি দ্রুত বাড়ার খবর দেন।

বিপদের কথা বুঝতে পেরে শিক্ষক রাজেন্দ্র আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি। তিনি সাথে সাথে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং সব শিক্ষককে নির্দেশ দেন বাচ্চাদের ক্লাসরুম থেকে বের করে উঁচু পাহাড়ের দিকে নিয়ে যেতে। ছাত্র-ছাত্রীরা যখন প্রাণভয়ে দৌড়ে পাহাড়ের ওপরের এক বটগাছের নিচে আশ্রয় নিচ্ছিল, ঠিক তখনই বিশাল কাদা, পাথর আর বরফের ঢল এসে আছড়ে পড়ে। চোখের সামনেই ধসে পড়ে তাদের প্রিয় স্কুল ভবনটি।

কিন্তু শিক্ষকের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে ১,৬৪৩ জন শিশুর সবাই অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। তবে দুঃখের বিষয়, স্কুলের দুজন কর্মী ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মারা যান। নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকার একটি বড় পাহাড় থেকে বরফ ও পাথর ধসে নদীতে পড়ার কারণেই এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এতে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে এবং অনেক মানুষ মারা গেছেন। তবে এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির এই সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা আজ হাজারো পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

 

কিউএনবি/আয়শা/৩০ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১০:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit