রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আটোয়ারীতে শিক্ষক সংকটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ‎তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ৬ মাসে সাভার আশুলিয়ায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে-এমপি সালাউদ্দিন বাবু মৌসুম শুরুতে প্রতিপক্ষকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখ নেপালে বিড়ালের ডাক ভেবে ধ্বংসস্তূপ সরাতেই মিলল ৫ বছরের শিশু ২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফিফার সংস্কারে নেদারল্যান্ডসের বৈশ্বিক সম্মেলনের প্রস্তাব অভিনেতা না হলে যে পেশায় যেতে চেয়েছিলেন অমিতাভ কেরুংয়ে আটকা ১ হাজার নেপালি, বিকল্প পথে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ভান্ডারের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫০০ কোটির বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনার পর এ চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

চুক্তির বিস্তারিত কাঠামো অবশ্য প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এর আওতায় পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এসব তেল ভান্ডারের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা দেননি তিনি।

ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এ চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস বলেছেন, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেল ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

রদ্রিগেস বলেন, এসব বিনিয়োগ শুধু দেশটির তেলশিল্পের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নেই সহায়তা করবে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামের তেল পাবে, যা দেশটির জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ভেনেজুয়েলার জন্য চুক্তিটি প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও জানান রুবিও। তার মতে, এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের পথও তৈরি হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলভান্ডার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। দেশটির তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।

তবে চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক ভিত্তি নিয়ে এখনো বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডেভিড গোল্ডউইন প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না। তার মতে, কোনো তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার এমন নজিরও নেই।

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এবং তেলশিল্পে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে নতুন চুক্তি বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ আনতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তার তেলশিল্প রাষ্ট্রীয়করণ করে। পরে প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা হয় এবং একপর্যায়ে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সম্পদ অধিগ্রহণ করা হয়।

নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে দেশটির তেল উৎপাদন আরও দ্রুত কমে যায়। এখন ট্রাম্প প্রশাসন সেই শিল্প পুনরুজ্জীবিত করে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। – সূত্র : রয়টার্স

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit