মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা আসছে: জাহেদ উর রহমান চলতি অর্থবছরেই অনুষ্ঠিত হবে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী সংকটের দশ বছর: রোহিঙ্গাদের ফেরার অপেক্ষা শেষ কোথায় ? বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত? চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফুলহ্যামকে হারাল চেলসি, দ্রুততম গোলে রেকর্ড পালমারদের আশ্রয়প্রার্থীদের ২ লাখ ভিসা বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান ‘পুরোপুরি ধসে পড়ছে’: ট্রাম্প মানবসম্পদ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করবে সিঙ্গাপুর-ইকুয়েডর

চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পণ্য আমদানি করে অন্য দেশে পুনরায় রপ্তানির দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল গোপন করে মার্কিন শুল্ক এড়িয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি অর্থনীতির ওপরও বাড়ছে মার্কিন নজরদারি।

১৩ আগস্ট প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’। এতে বলা হয়, চীনা রপ্তানিকারকেরা বিভিন্ন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরকে চীনের জন্য একটি ‘ছোট ও সুযোগসন্ধানী লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, কথিত ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ সিঙ্গাপুরের জন্য উল্টো একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। দেশটি আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজে শনাক্তযোগ্য বাণিজ্যিক হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে।

মে ব্যাংকের ম্যাক্রো রিসার্চ টিমের আঞ্চলিক সহ-প্রধান চুয়া হাক বিনের মতে, কঠোর বাণিজ্যিক বিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর অন্য অনেক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শুল্কহার নির্ধারণের নীতিই বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করার প্রণোদনা তৈরি করেছে। ফলে শুল্ক এড়ানোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হলে কম শুল্কের দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান ডেবোরা এলমস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপ সরবরাহব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর মতে, এতে নতুন নতুন বাণিজ্যপথ তৈরি হবে এবং এর জেরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আবারও নতুন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

ট্রান্সশিপমেন্ট আসলে কী?
ট্রান্সশিপমেন্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে পণ্য সরাসরি চূড়ান্ত গন্তব্যে না গিয়ে কোনো একটি বন্দর বা বাণিজ্যিক হাবের মধ্য দিয়ে অন্য জাহাজে স্থানান্তরিত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।

এ ব্যবস্থায় বড় জাহাজে বিপুল পরিমাণ পণ্য দীর্ঘ আন্তর্জাতিক রুটে পরিবহন করা হয় এবং ছোট জাহাজ ব্যবহার করা হয় আঞ্চলিক রুটে। এতে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় কমে, অপেক্ষাকৃত ছোট বন্দরগুলোও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরিবহন সেবার পরিধি বাড়ে।

তবে চীন থেকে পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান তৃতীয় দেশের ট্রান্সশিপমেন্ট হাব ব্যবহার করে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করার চেষ্টা করতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে যাওয়া অধিকাংশ পণ্যই অবৈধ নয়।

সিঙ্গাপুর এর একটি বড় উদাহরণ। কয়েক শত বছর ধরেই দেশটি আমদানি, সংরক্ষণ ও পুনরায় রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির বন্দরে রেকর্ড ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ২০ ফুট সমতুল্য ইউনিট (টিইইউ) কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় যা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। সরবরাহব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, এর প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কনটেইনার সাধারণত অন্য গন্তব্যে ট্রান্সশিপ বা পুনরায় রপ্তানি করা হয়। এসব গন্তব্যের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ রয়েছে।

সিঙ্গাপুর প্রতি মাসে তাদের অভ্যন্তরীণ রপ্তানি ও পুনরায় রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে। সিঙ্গাপুরের উৎপত্তির পণ্য, দেশটিতে উৎপাদিত বা প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং আমদানি করা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি বা সংযোজিত পণ্যকে অভ্যন্তরীণ রপ্তানির আওতায় ধরা হয়।

অন্যদিকে, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, পুনরায় রপ্তানি হলো এমন পণ্য যা আমদানির পর কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই আবার বিদেশে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর কাস্টমসের সংজ্ঞায়, দেশের বাইরে থেকে এসে দেশের বাইরে চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরের মধ্য দিয়ে যাওয়া পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় পড়ে।

সিঙ্গাপুরের পুনরায় রপ্তানি করা পণ্যের বড় অংশই যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম। এর মধ্যে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ছাড়াও রাসায়নিক ও রাসায়নিক পণ্য, খনিজ জ্বালানি ও তেল এবং বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য রয়েছে।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের নিয়ম অনুযায়ী, শুধু পণ্য নতুন করে প্যাকেট করা, বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা, বাছাই, শ্রেণিবিন্যাস বা চিহ্নিত করার মতো কাজকে পণ্যের ‘রূপান্তর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। অভ্যন্তরীণ রপ্তানি ও পুনরায় রপ্তানির এই পার্থক্য শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূমিকা
অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ভারসাম্য পরিবর্তনের জন্য শুল্ককে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নীতি সমস্যাটিকে পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে দেশটির নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব-নীতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে।

ডেবোরা এলমসের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র যতটা সঞ্চয় করে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করে; ফলে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করার প্রয়োজন তৈরি হয়। তাই বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে পরিবর্তন এলেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রে চীনা রপ্তানি কমেছে। তবে একই সময়ে বিশ্বের প্রায় সব অর্থনীতির সঙ্গেই চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে রেকর্ড করেছে।

এই সময় যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে এসব দেশের কিছু অংশকে চীনের কথিত ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে চীন থেকে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে একই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্কের পার্থক্যকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে কম শুল্কের তৃতীয় দেশের মাধ্যমে একই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা তৈরি হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে তৃতীয় দেশ থেকে বাড়তে থাকা সব রপ্তানিকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন।

২০১৮ সালের পর ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো চীন প্লাস ওয়ান কৌশল অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই কৌশলের আওতায় চীনের পাশাপাশি অন্তত আরও একটি দেশে উৎপাদন বা সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

পরবর্তীতে এই কৌশল আরও বিস্তৃত হয়ে ‘চীন প্লাস এন’ ধারণায় রূপ নেয়, যেখানে ‘এন’ দিয়ে একাধিক বিকল্প উৎপাদন বা সরবরাহকেন্দ্রকে বোঝানো হয়। এর ফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সরবরাহব্যবস্থা আরও জটিল হয়েছে এবং আন্তঃদেশীয় ট্রান্সশিপমেন্টও বেড়েছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ তিনটি অ-তেল পুনঃরপ্তানি গন্তব্য ছিল তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও হংকং। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনে আর নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপ্রযুক্তির কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় করার অংশ হিসেবে লেনোভো, অ্যাপল, ডেল ও এইচপির মতো প্রতিষ্ঠান চীন থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদন ও চূড়ান্ত সংযোজনের কিছু কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৪৫৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে এ জোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩২৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ করা কতটা কঠিন?
হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, শুল্ক ফাঁকি দিতে ব্যবহৃত সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্টের বার্ষিক মূল্য ৪০ বিলিয়ন থেকে ৩০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শিপিং এজেন্টদের জমা দেওয়া নথির সত্যতা যাচাই করতে সরবরাহব্যবস্থা নিরীক্ষা, কার্গো ম্যানিফেস্ট পর্যালোচনা ও আকস্মিক পরিদর্শনসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। তবে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কনটেইনার বন্দরে আসা-যাওয়া করায় প্রতিটি চালান পরীক্ষা করা বাস্তবে কঠিন।

নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি হঠাৎ বেড়ে গেলে, বিশেষ করে নতুন শুল্ক আরোপের পর, তদন্তকারীরা সেসব অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখেন। এর মাধ্যমে বড় ধরনের অবৈধ লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তদন্ত শেষ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

এর একটি উদাহরণ ২০২৪ সালের ঘটনা। চীনা সৌর প্যানেলের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও জরিমানা আদায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগকে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, শুল্ক এড়াতে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হয়েছে বলে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) মনে করলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক আরোপ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ শুল্ক প্রয়োগ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘ট্রেড ফ্রড টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়। শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি, কাস্টমস জালিয়াতি ও জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এর লক্ষ্য।

তবে এখন পর্যন্ত এই টাস্ক ফোর্স দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা আদায় করেছে, যা হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির তুলনায় অনেক কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে শুল্কের হার বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠলে বাণিজ্যিক নজরদারি কতটা বাড়বে, সেটিই এখন একমাত্র প্রশ্ন নয়। বরং ডেটা অ্যানালিটিকস, সরবরাহব্যবস্থার দৃশ্যমানতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার ওপর কর্তৃপক্ষের বাড়তে থাকা নির্ভরতার সঙ্গে ব্যবসাগুলো কত দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্র : দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

কিউএনবি/অনিমা/২৫ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ১০:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit