সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়তে পারে বাংলাদেশের ব্যয়

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যয়ের তালিকায় নতুন একটি চার্জ যুক্ত হতে যাচ্ছে। আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি’(এসএনএ) চার্জ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি এসএনএ চুক্তি করার প্রক্রিয়া চলছে। চুক্তি সইয়ের বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, চুক্তি সম্পন্ন করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিইআরসি আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য শুরুতে প্রতি ইউনিটে ০.০১ রুপি চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের পিডিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত হার অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।

চার্জের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে এটি বাংলাদেশের মোট আমদানি ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্ণ এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি রয়েছে। এই পাঁচটি উৎসের মোট ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্যই এনভিভিএন ও বিপিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আদানি পাওয়ারের মাধ্যমে আমদানি করা ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন করে এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতেই এ ধরনের চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে নতুন এসএনএ চুক্তির আওতায় ওই বিদ্যুৎ পড়ছে না। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে শুধু বিদ্যুতের দাম নয়, এর সঙ্গে সঞ্চালন বা হুইলিং চার্জসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত ব্যয়ও রয়েছে। এবার এর সঙ্গে নতুন করে এসএনএ চার্জ যুক্ত হওয়ার পথে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্ণ—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। শুধু বিদ্যুতের মূল্য বাবদ এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। 

এর মধ্যে আদানি পাওয়ার থেকে প্রায় ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য হুইলিং চার্জ বাবদ আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ওই চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

নতুন এসএনএ চার্জের হার প্রতি ইউনিটে মাত্র ০.০০৫ ভারতীয় রুপি। বিদ্যুতের মূল দামের তুলনায় এটি বড় কোনো অঙ্ক নয়। তবে আমদানির পরিমাণ ও সময়ের সঙ্গে এই ছোট চার্জও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে।

 

কিউএনবি/অনিমা/২৪ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১২:০৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit