সোমবার রাজধানীর ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্ট ও গ্রাউন্ডসে ‘ঢাকা ইন্টার স্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যানিজিয়া। ১৯৯০ বিশ্বকাপের তারকা বাংলাদেশে এসে মুগ্ধ মানুষের ভালোবাসায়। বললেন, ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার সময় থেকেই বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-প্রেম তার নজরে। টেলিভিশনের পর্দায় তিনি দেখেছেন কীভাবে দূরদেশের মানুষ আর্জেন্টিনার জয়কে নিজেদের উৎসব বানিয়ে নেয়।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন ক্যানিজিয়া। পথ কঠিন, মানেন তিনি। স্বপ্ন দেখায় বাধা কোথায়? তার মতে, উন্নত কোচিং, সরকারি সহায়তা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে পারে। লেস্টার সিটিতে খেলা হামজা চৌধুরীর প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি।
কথায় কথায় ফিরে এসেছে ম্যারাডোনা। সেই বন্ধু, সেই কিংবদন্তি, যার সঙ্গে ক্যানিজিয়ার নাম উচ্চারিত হলেই ’৯০ বিশ্বকাপের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ম্যারাডোনার সঙ্গে তার বিখ্যাত চুম্বনের গল্পও উঠেছে। ক্যানিজিয়ার সহজ উত্তর, ছিল বন্ধুত্বেরই প্রকাশ। লিওনেল মেসির প্রসঙ্গেও থামেননি এই কিংবদন্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসিকে দেখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে ফুটবলের জাদুকর বলে কথা, চাইলেই ৪১-৪২ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে পারেন, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব এলে? দরজা পুরোপুরি বন্ধ রাখেননি ক্যানিজিয়া। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাননি, তবে প্রস্তাব এলে ভাববেন। যে দল সামনে এগোতে চায়, তার সঙ্গে কাজ করার আনন্দ আলাদা, এই কথাতেই যেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রেখে গেলেন নতুন এক স্বপ্ন। ক্যানিজিয়ার ঢাকায় আসা তাই নিছক এক কিংবদন্তির সফর নয়। এটি যেন নব্বইয়ের সেই সবুজ-সাদা-নীল দিনগুলোর সঙ্গে আজকের বাংলাদেশের একটি আবেগের সেতুবন্ধ।