আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকার হরমুজের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমার মনে হয় আমরা এটা আমাদের দখলেই রাখবো! আমাদের নৌঅবরোধকে সবাই ইস্পাতের প্রাচীর নামে ডাকছে এবং এ বিষয়ে ইরানের কিছুই করার নেই। তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, তাদের কোনো বিমানবাহিনী নেই, তাদের বাকি থাকা সৈন্যরা বেতনহীন, আইআরজিসি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পালিয়ে যাচ্ছে, আর তাদের নেতৃত্ব অত্যন্ত অনিশ্চিত! তাদের কোনো টাকা নেই – তাদের দেশ শেষ। তাদের কাছে আছে কেবল ভুয়া খবর এবং ৩০০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি, যা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে! ইরান শুধু মুখেই বড় বড় কথা বলে, কাজে কিছু নেই, মধ্যপ্রাচ্যের সেই সন্ত্রাসী/অত্যাচারীরা আর নেই। আল্লাহর অশেষ প্রশংসা!
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বলে ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি শুরু থেকেই শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথে চরম সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার, বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া, সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তারা এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে দেবে না। ইরানি বাহিনীর মতে, কৌশলগত এই পানিপথটি এখন আর সাধারণ নৌপথ নয় বরং একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন অর্থনীতির পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এই সংকট নিয়ে ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী মনোভাব বজায় রাখছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে অত্যন্ত কৌশলে সীমিত পরিসরে চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো বিষয়টিকে দাবা খেলার সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও চরম অর্থসংকটে থাকা ইরানের পরিস্থিতি এখন কেবল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
কিউএনবি/অনিমা/১৩ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৫:২৮