বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর ১৯তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন তরুণী!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ১৯ তলার বারান্দা থেকে লাফ দেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। অবিশ্বাস্যভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। একটি গাছ ও নিচের ঝোপঝাড় তার পতনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

চীনের জিয়াশিং শহরের বাসিন্দা ওই তরুণীর ছদ্মনাম শিয়াওই। গত ১২ জুলাই স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে ভাড়া বাসার বারান্দা থেকে তিনি লাফ দেন। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ড জানায়, নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের ধাক্কা অনেকটাই শোষণ করে নেয়। পরে তিনি ঝোপের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হলেও বেঁচে যান।

গুরুতর আহত, একাধিক অস্ত্রোপচার
ঘটনার পর শিয়াওইয়ের প্রেমিক দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার জন্য অগ্রিম ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) জমা দেন।
চিকিৎসকেরা জানান, তার মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহায় আঘাত লেগেছে। এছাড়া শ্রোণিচক্র (পেলভিস), পিউবিক হাড় এবং দুই পায়ে একাধিক হাড় ভেঙে গেছে।

ইতোমধ্যে তার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে তৃতীয় অস্ত্রোপচারেরও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

চেতনা ফিরে পাওয়ার পর শিয়াওই জানান, প্রেমিকের সঙ্গে টানা কয়েক ঘণ্টা ঝগড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

ইউনান প্রদেশ থেকে এসে শিয়াওইকে দেখাশোনা করছেন তার চাচা লি। তিনি বলেন, এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া হয়েছে।

১০ জুলাই শিয়াওই সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজ শহরে ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিটও কিনেছিলেন। কিন্তু ১১ জুলাই রাতে আবার ঝগড়া বাধলে প্রেমিক তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং বাসার দরজাও তালাবদ্ধ করে দেন, যাতে তিনি বের হতে না পারেন।

চাচা লি বলেন, “সারারাত ঝগড়ার পর সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তখন তার একটাই চিন্তা ছিল- যেভাবেই হোক ওই বাসা থেকে বেরিয়ে আসা এবং প্রেমিককে ছেড়ে চলে যাওয়া।”

পরিবারের ভাষ্য, এখন শিয়াওই নিজের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তের জন্য গভীর অনুতপ্ত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিয়াওইয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। চাচা লি জানান, ২০২২ সালে শিয়াওইয়ের মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ে। তার চিকিৎসার জন্য পরিবার তাদের সঞ্চয় শেষ করে এবং ঋণ নিতে বাধ্য হয়।

এদিকে শিয়াওইয়ের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে এক লাখ ইউয়ানের বেশি ব্যয় হয়েছে। হাসপাতালের কাছে এখনও প্রায় ৬০ হাজার ইউয়ান বকেয়া রয়েছে।

পরিবারটি একটি অনলাইন দাতব্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ৯০ হাজার ইউয়ান সংগ্রহ করেছে। তবে তৃতীয় অস্ত্রোপচার, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় নিয়ে তারা এখনও উদ্বিগ্ন।

প্রেমিককে হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি পরিবার
ঘটনার পর শিয়াওইয়ের প্রেমিক একাধিকবার হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে কক্ষে প্রবেশ করতে দেননি।

পরিবারের আশঙ্কা ছিল, প্রেমিকের উপস্থিতি শিয়াওইকে আবারও মানসিকভাবে অস্থির করে তুলতে পারে। একপর্যায়ে পুলিশকে ডাকা হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই যুবককে হাসপাতাল ছাড়তে রাজি করায়।

শিয়াওই কী পরিস্থিতিতে ১৯তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

চাচা লি বলেন, “আমার ভাতিজি সত্যিই ভাগ্যবান। যে জায়গায় সে পড়েছে, তার কয়েক ফুট দূরেই ছিল কংক্রিটের মেঝে। সেখানে পড়লে তার বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনাই থাকত না।”

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “মানুষের জীবন একটাই। আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভয়ংকর হতে পারে। কোনও বিরোধ তৈরি হলে আগে নিজেকে শান্ত করুন, জীবনের সঙ্গে কখনও জুয়া খেলবেন না।”

আরেকজন লেখেন, “কোনও সম্পর্কই নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার মতো মূল্যবান নয়।” সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

কিউএনবি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ৮:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit