বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানে থানায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুরো পুলিশ স্টেশন বরখাস্ত

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : পাকিস্তানের লাহোরে থানা প্রাঙ্গণের ভেতরেই এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কর্তৃক ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট গাজীয়াবাদ থানাটির ওসিসহ দায়িত্বরত সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে একযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের মতো দায়িত্বশীল সংস্থার কার্যালয়ে এমন পাশবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাহোরসহ পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

লাহোর পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস) ফয়সাল কামরান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গাজীয়াবাদ থানা ভবনের দোতলার একটি কক্ষে ওই তরুণীকে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক পাশবিক নির্যাতন চালান। পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্যাতিতা তরুণী নিজেই ঘটনাস্থল ও নির্দিষ্ট কক্ষটি চিহ্নিত করে দেন। ডিআইজি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ছাড়া কীভাবে একজন সদস্য একা একজন তরুণীকে থানায় নিয়ে এলেন এবং তা কারও নজরে এলো না, সেই গাফিলতির দায় পুরো থানার। পুলিশি নিয়ম অনুযায়ী থানা প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়ম ঠেকাতে দায়িত্বরত সবাই জবাবদিহিতার আওতায় পড়েন বলেই পুরো থানার কর্মকর্তা ও সদস্যদের বরখাস্ত করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় ওই থানায় কর্মরত প্রায় ৭০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাকে একযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গাজীয়াবাদ থানায় পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণের শাস্তি) এবং ২০০২ সালের পুলিশ অর্ডারের ১৫৫-সি ধারায় (পুলিশ কর্মকর্তার গুরুতর অপরাধমূলক আচরণ) একটি প্রাথমিক তথ্যবিবরণী বা এফআইআর দায়ের করেন।

এফআইআরে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর এবং তিনি মানসিকভাবে খানিকটা ভারসাম্যহীন। গত রবিবার বিকেলে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণীর বাবাকে জানান যে, সাদা পোশাকের এক পুলিশ সদস্য তার মেয়েকে নিজের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গেছেন।

সংবাদ পেয়ে স্বজনরা রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গাজীয়াবাদ থানায় পৌঁছান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীর চাচা ফোনে জানান যে, তরুণীটি কাঁদাতে কাঁদাতে বাড়ি ফিরে এসেছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাড়ি ফিরে কান্নার কারণ জানতে চাইলে উক্ত তরুণী আকুল হয়ে জানান যে, এক পুলিশ সদস্য তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে থানায় নিয়ে যান এবং সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। 

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই এএসআই-এর বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সূত্র: ডন

কিউএনবি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ৭:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit