বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

ট্রাওরের জনপ্রিয়তার আড়ালে যা ঘটছে বুরকিনা ফাসোয়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : মাত্র ৩৮ বছর বয়সে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২২ সালে বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতায় আসেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। পশ্চিমা প্রভাব ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আফ্রিকার অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তা বাড়লেও দেশের ভেতরে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর সরকার কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছে।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ট্রাওরের জনপ্রিয়তার কারণ এবং তাঁর সরকারের সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর ট্রাওরে ফরাসি সেনাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন এবং পশ্চিমা সামরিক অংশীদারত্ব থেকে সরে এসে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেন। একই সঙ্গে তিনি বুরকিনা ফাসোর বিপ্লবী নেতা টমাস সংকারার আদর্শকে সামনে এনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে নতুনভাবে তুলে ধরেন। স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও জাতীয় সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগও তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

তবে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ট্রাওরের সরকার সমালোচনার মুখে। গত এপ্রিলে তিনি জনগণকে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যেতে আহ্বান জানান। তাঁর সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত করেছে। পাশাপাশি সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

ধর্মীয় ক্ষেত্রেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের আওতায় কয়েকজন প্রভাবশালী সুন্নি আলেমকে গ্রেপ্তার এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর ঘটনায় তাঁর সমর্থনভিত্তিতেও প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ট্রাওরে শক্ত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে প্রতীকী এই সাফল্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করতে পারছে না।

ওয়াগাদুগুর এক তরুণ নেতা রয়টার্সকে বলেন, একজন আফ্রিকান নেতাকে পশ্চিমা শক্তির সামনে দৃঢ় অবস্থান নিতে দেখা গর্বের বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিক গর্ব দিয়ে মানুষের জীবন চলে না। দেশের মানুষ এখন নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারও চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইব্রাহিম ট্রাওরে সার্বভৌমত্বের বার্তাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করতে পেরেছেন। তবে সামরিক শাসনের মাধ্যমে তিনি বুরকিনা ফাসোয় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সূত্রঃ আল জাজিরা

কিউএনবি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ৭:৩৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit