ডেস্ক নিউজ : স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন, পুনরায় ভর্তি (রি-অ্যাড) হওয়া শিক্ষার্থীদের হলের সিট বাতিল এবং গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা পুনরায় চালুর আশঙ্কার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভা চলাকালে সভাকক্ষের বাইরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাকসুর নেতাকর্মীরা সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে তারা সিন্ডিকেট সভাকক্ষের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘স্বচ্ছ নীতিমালা, দিতে হবে দিয়ে দাও’, ‘গণরুমের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘গণরুমের পাঁয়তারা, রুখে দেবে ছাত্ররা’, ‘গেস্টরুমের পাঁয়তারা, রুখে দেবে ছাত্ররা’, ‘আবাসনে রি-অ্যাড, গণরুমের রোডম্যাপ’ এবং ‘আদু ভাইয়ের নীতি, মানি না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ‘গণরুমের পাঁয়তারা, রুখে দেবে ছাত্ররা’, ‘আবাসনে রি-অ্যাড = গণরুম’ এবং ‘গণরুমের ঠিকানা, ঢাবিতে হবে না’ লেখা প্ল্যাকার্ডও প্রদর্শন করা হয়।
কর্মসূচিতে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, সিন্ডিকেট সভায় সিট নীতিমালা বাস্তবায়নের নামে গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের তথ্য পেয়েই তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন আবাসিক সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. এনামুল হক সজীব, ড. রেজাউল করিম সোহাগ ও ড. শান্টু বড়ুয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। তারা আলোচনার জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও ডাকসুর নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি জানান এবং কর্মসূচি চালিয়ে যান।
একপর্যায়ে শাহবাগ থানার সামনে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপস্থিত শিক্ষকদের বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এসময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শাহবাগের হামলার ঘটনার সুরাহা চেয়েছি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি- বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আচরণও আগের মতোই।
তিনি দাবি করেন, আমরা চাইলে শাহবাগে পাল্টা হামলা করতে পারতাম। কিন্তু ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে আমরা তা করিনি।
কিউএনবি/অনিমা/২৯ জুলাই ২০২৬,/সকাল ৮:১২