মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

বিশ্ব সাপ দিবস আজ, প্রাণঘাতী সাপ এখন বিশ্বজুড়ে লাভজনক খামারের সম্পদ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : আজ বিশ্ব সাপ দিবস। মানুষকে সচেতন করা, সাপ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাপের গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ১৬ জুলাই বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়।

সাপকে ঘিরে মানুষের মনে ভয় থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শিল্পখাতে এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সাপের বিষ থেকে তৈরি হয় প্রাণরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ এবং ব্যথানাশক ওষুধ তৈরিতেও সাপের বিষ ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এক পাউন্ড সাপের বিষের মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপ এখন শুধু বন্য প্রাণী নয়, লাভজনক খামারভিত্তিক শিল্পেও পরিণত হয়েছে। চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ভারতে বহু বছর ধরেই বাণিজ্যিকভাবে সাপের খামার পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৩ সালে বিবিসির এক প্রতিবেদনে চীনের জিসিকিয়াও গ্রামকে ‘সাপের গ্রাম’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ইয়াং হোঙচাঙ নামে এক বাসিন্দার উদ্যোগে শুরু হওয়া সাপ পালন একসময় পুরো গ্রামের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়। বর্তমানে সেখানে হাজার হাজার সাপ বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপকে ঘিরে মূলত চারটি খাতে বড় অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।

প্রথমত, ওষুধশিল্প। সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, চামড়া শিল্প। পাইথনসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপের চামড়া দিয়ে ব্যাগ, জুতা, বেল্টসহ বিলাসবহুল ফ্যাশনপণ্য তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ড এসব চামড়া ব্যবহার করে থাকে।

তৃতীয়ত, খাদ্যশিল্প। চীনের কিছু অঞ্চলে সাপের মাংস জনপ্রিয় খাবার। এছাড়া সাপের বিভিন্ন অঙ্গ পুষ্টিসমৃদ্ধ পণ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।

চতুর্থত, পর্যটন ও গবেষণা। থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে সাপের খামার পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে দর্শনার্থীরা টিকিট কেটে সাপ দেখা এবং বিষ সংগ্রহের প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহুমুখী আয়ের সুযোগ থাকায় তুলনামূলক কম জায়গায়ও সাপের খামার লাভজনকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

বাংলাদেশেও এ খাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্য সাপ পালনের জন্য উপযোগী। দেশে প্রায় ৯০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে কিং কোবরা, গোখরা ও চন্দ্রবোড়ার মতো বিষধর সাপও রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা এবং অ্যান্টিভেনমের চাহিদা বেড়েছে। অথচ দেশে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন এখনও সীমিত। ফলে বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় সাপের খামার গড়ে তোলা গেলে দেশীয়ভাবে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

তবে এ খাতের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাপের বিষ সংগ্রহ, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষায়িত অবকাঠামো এবং সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাব এখনো বড় বাধা। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা গেলে দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে সাপের খামার গড়ে উঠতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

কিউএনবি/অনিমা/১৬ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit