শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড বন্ধ, মাটিরাঙ্গায় স্থানীয়দের  বিক্ষোভ মিছিল।

জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি ।
  • Update Time : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৫২ Time View
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : ​খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এক জীবিত ব্যক্তিকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব ওসমান আলী  ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে। উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী   বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

​ভুক্তভোগী রুহুল আমিন জানান, তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত ৯ মাস ধরে ভাতার টাকা না আসায় তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রদত্ত একটি ‘মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র’র ওপর ভিত্তি করে তাকে ২০২৪ সালে মৃত দেখানো হয়েছে (স্মারক নং-৪৬.০০.৪৬৭০.০৭৬.১৬.০০৬.২১, তারিখ: ১১/১/২০২৬)। এই সনদের আলোকেই সমাজসেবা অধিদপ্তর তার বয়স্ক ভাতার কার্ডটি স্থায়ীভাবে বাতিল করে দেয়।

​ভুয়া মৃত্যু সনদের তথ্যানুযায়ী, তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ওসমান আলী এবং চারজন ইউপি সদস্য—মো. আব্দুল মজিদ, জমিলা বেগম, মো. বেলাল হোসেন ও মর্জিনা বেগম ওই মৃত্যু প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ​এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর আজ রবিবার (২৮ জুন) তবলছড়ি ইউনিয়ন সচিব ওসমান আলী সহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী এইচ এম হেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”যে মানুষটি প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে বাজারে-দোকানে আসছেন, তাকে মৃত ঘোষণা করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। তবলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। ​ইউপি সচিব মো. ওসমান আলী তিনি নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “রুহুল আমিনকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনবার মৌখিক নোটিশ করা হয়েছিল। তিনি উপস্থিত না হওয়ায় এবং গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাজসেবা দপ্তর থেকে ভাতাভোগী প্রতিস্থাপনের তালিকা পাঠানোয় আমরা তদন্ত করি। গ্রাম পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই মৃত্যুর সনদ তৈরি করা হয়েছে।

​ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ: তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা দাবি করে বলেন, “আমার অজান্তেই সমাজসেবা এই কাজ করেছে। তবে এরই মধ্যে রুহুল আমিনের বয়স্ক ভাতা আবার চালু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আসলে এলাকায় তাকে সবাই ‘আমিন মিয়া’ নামে চেনে, ‘রুহুল আমিন’ নামে কেউ চেনে না। নাম বিভ্রাটের কারণে এমন ভুল হতে পারে। ​মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাশেদ: বিষয়টি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তদন্তাধীন থাকায় তিনি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, “ভুক্তভোগীর আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ জুন ২০২৬,/বিকাল ৪:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit