আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, লেবাননসহ অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আরও কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, লেবানের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িত লেবাননের জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে এই দখলদার শাসনের (ইসরায়েল) বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিয়েছে।”
তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান পর্যায়ে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে তারা আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যদি আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে- বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে-তাহলে আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় আরও কঠোর, বিধ্বংসী এবং চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ইসরায়েলও ইরানের হুঁশিয়ারির জবাবে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে। সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় জানায়, তেহরান যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে, তা ইসরায়েল কোনওভাবেই মেনে নেবে না।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে সিএনএনকে জানান, ইসরায়েলের অবস্থান হলো- বৈরুতের হিজবুল্লাহ-অধ্যুষিত এলাকায় অভিযান চালানোর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যদি ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালায়, তাহলে সেই নীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বার্তায় বলা হয়, “তেহরানের শাসনব্যবস্থা যে নতুন বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, ইসরায়েল তা মেনে নেবে না।”
এছাড়া ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে যে, নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহর হুমকি দূর করতে তারা লেবাননের বিভিন্ন স্থানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।
বার্তায় বলা হয়, “আমাদের নাগরিকদের প্রতি হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী হুমকি দূর করার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা লেবাননের সর্বত্র অভিযান অব্যাহত রাখব।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক তৎপরতা এবং হিজবুল্লাহকে ঘিরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। উভয় পক্ষের কঠোর বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামান্য উসকানিও নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। সূত্র: সিএনএন
কিউএনবি/অনিমা/০৮.০৬.২০২৬/রাত ৯:২১