মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পনির খাওয়ার যত উপকারিতা আশুলিয়ায় ট্রাক-শ্রমিক ইউনিয়নের বাইপাইল শাখা অফিস উদ্বোধন মাটিরাঙ্গায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা। নওগাঁয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত বাংলা হিলি (হাকিমপুর) এ সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত॥ ফুলবাড়ীতে নিরব ব্যাগ হাউজের মালিকের বিরুদ্ধে ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ॥ রাঙামাটিতে চোলাই মদসহ ৭ জন গ্রেপ্তার “রাঙামাটি থেকে মাসে ২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে মাইকেলের ইউপিডিএফ” শার্শায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শার্শায় ৩ দিনের ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

মরুভূমিতে বালির পাহাড়, তবুও কেন বাইরে থেকে কিনছে সৌদি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৬০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মরুভূমি আর বালি—এই দুইয়ের নাম একসঙ্গে উচ্চারণ হলেই সৌদি আরবের কথা মনে পড়ে। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই দেশটিকেই প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টন বালি আমদানি করতে হয়। এর পেছনে রয়েছে বালির গঠনগত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরুভূমির বালি নির্মাণকাজে ব্যবহারযোগ্য নয়। হাজার হাজার বছর ধরে বাতাসের ঘর্ষণে এই বালির কণাগুলো অত্যন্ত মসৃণ ও গোলাকার হয়ে গেছে। ফলে সিমেন্টের সঙ্গে মিশলেও তা শক্তভাবে আটকে থাকে না, বরং আলাদা হয়ে যায়।

অন্যদিকে নির্মাণকাজে প্রয়োজন ভাঙা ও অমসৃণ বালির কণা, যা সাধারণত নদী, হ্রদ বা জলধারার তলদেশে পাওয়া যায়। পানির প্রবাহ ও পাথরের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এই বালির কণাগুলো খসখসে হয় এবং সিমেন্টের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে শক্ত কাঠামো তৈরি করতে পারে।

এই কারণেই সৌদি আরবকে বিদেশ থেকে বালি আমদানি করতে হয়। ২০২৩ সালে দেশটি অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার ডলারের বালি আমদানি করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার সমান। নির্মাণ খাতে ব্যবহারের জন্য এ ধরনের বালির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষ করে সৌদির উচ্চাভিলাষী নির্মাণ প্রকল্প, যেমন নতুন শহর নিয়োম নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমাণ বালির প্রয়োজন হচ্ছে। এই চাহিদা পূরণে বিদেশি বালির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে দেশটির।

শুধু সৌদি নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও অস্ট্রেলিয়া থেকে বালি আমদানি করে। অস্ট্রেলিয়ার নদী ও হিমবাহ অঞ্চলে তৈরি হওয়া বালিই মূলত এই চাহিদা পূরণ করছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫০০০ কোটি টন বালি নদীখাত থেকে উত্তোলন করা হয়। ১৯৭৬ সালের পর থেকে এই পরিমাণ প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। জলের পর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ এখন বালি।

গত ৫০ বছর ধরে প্রতি বছর গড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারে বালির চাহিদা বাড়ছে। এতদিনে ব্যবহৃত বালির পরিমাণ দিয়ে পৃথিবীর চারপাশে ২৭ মিটার উঁচু ও ২৭ মিটার পুরু প্রাচীর তৈরি করা সম্ভব হতো।

তবে এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে বালির জোগান সীমিত। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে নদীখাত থেকে বালি উত্তোলন বাড়ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে, এমনকি ছোট দ্বীপও বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে পাথর ভেঙে তৈরি বালি বা পুরনো অবকাঠামো ভেঙে পুনর্ব্যবহারের ওপর গবেষণা চলছে। তবে এখনো কার্যকর সমাধান না আসায় বালির চাহিদা ও সংকট—দুইই বাড়ছে সমানতালে।

সূত্র: আনন্দ বাজার

কিউএনবি/অনিমা/০৭.০৬.২০২৬/রাত ১০:৫৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit