সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

সুদানের বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৪৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুদানের মধ্যাঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ড্রোন ও বিমান হামলা বেড়ে যাওয়ায় মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, উত্তর কর্দোফান রাজ্যের আবু জাইমা শহরের একটি বাজারে শনিবার এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও এই বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই সংস্থাটি মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।

সংস্থাটির আশঙ্কা, আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে হামলার জন্য এখনো কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।

এর আগে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এবং একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়।

বেসামরিক মানুষ, গ্রাম এবং যানবাহনকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। সংস্থাটি বলছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা। তারা অবিলম্বে হামলা বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একই দিনে উত্তর কর্দোফানের রাজধানী আল উবাইদের একটি জ্বালানি স্টেশনেও ড্রোন হামলা হয়। স্থানীয় একটি হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে চারজন আহত বেসামরিক নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শহরটি কয়েক মাস ধরে আংশিক অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এবং স্থানীয় সূত্র বলছে, গত এক সপ্তাহে পশ্চিম ও উত্তর কর্দোফানে পৃথক দুই ড্রোন হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। ধীরে ধীরে এই সংঘাতে ড্রোন অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরের আল ফাশির দখলের পর কর্দোফান এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ জানায়, এসব এলাকা থেকে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তেল ও উর্বর কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ কর্দোফান অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। জাতিসংঘ এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কিউএনবি/অনিমা/০৭.০৬.২০২৬/দুপুর ১২:৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit