সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সব লেনদেন বন্ধ, নতুন সংকটে কিউবার অর্থনীতি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ ঘোষণা করেছে কিউবা। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে আর কোনো লেনদেন করা যাবে না। ওয়াশিংটনের কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সঙ্গে কাজ করা একটি বিদেশি আর্থিক অংশীদার তাদের কার্যক্রম সীমিত করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাভানা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী ৬ জুন থেকে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে কিউবায় আর লেনদেন করা যাবে না। স্থানীয় সময় বুধবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিউবার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এর আগে কিউবার ক্রেডিট কার্ড লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করা একটি বিদেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠান ১ মে জারি করা মার্কিন নির্বাহী আদেশের পর তাদের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবার সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়।

এক বিবৃতিতে কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রির আয় গ্রহণ করা কিউবার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কিউবার অর্থনীতির জন্য নতুন ধাক্কা হয়ে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন কিউবার পর্যটন খাত আগে থেকেই বড় ধরনের সংকটে রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, ঐতিহাসিকভাবে কিউবার ক্রেডিট কার্ড লেনদেন পরিচালনা করত একটি বিদেশি ব্যাংক এবং ফিনসিমেক্স এসএ। এটি জিএইএসএ নামের সামরিক নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর আর্থিক শাখা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জিএইএসএর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, জিএইএসএ দেশটির সবচেয়ে লাভজনক খাত, বিশেষ করে পর্যটন, আর্থিক লেনদেন, প্রবাসী আয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা থেকে অর্জিত মুনাফা গোপনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং তা সামরিক বাহিনী ও কিউবার অভিজাত গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করে।

তবে কিউবা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, জিএইএসএ প্রকাশ্যেই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।

কিউবার এ দাবি সত্ত্বেও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক বিদেশি প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। এর মধ্যে বিদেশি হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিউবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এড়িয়ে চলতেই বিনিয়োগকারীরা দূরত্ব তৈরি করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ভিসা ও মাস্টারকার্ড তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কিউএনবি/অনিমা/০৪.০৬.২০২৬/দুপুর ১২.৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit