রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী মাজারের খাদেম হত্যা: জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল পাকিস্তান দলে অস্থিরতা: কয়েকজন খেলোয়াড়ের মোবাইল হেফাজতে নিল বোর্ড ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে মেয়ের আবেগঘন পোস্ট তিনতলা পর্যন্ত মাটির নিচে, কাদার স্তূপে ক্ষীণ কান্না; ১০ দিন কীভাবে বেঁচে ছিলেন বৃদ্ধা? দেশের বাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত না হতে বললেন মন্ত্রী ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত ৬০

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে চালু হচ্ছে ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই সারা দেশে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।  

কারা কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। 

ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, সারা দেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।

এদিকে কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, কারাগারে বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য বলে জানায় কারা অধিদপ্তর।

কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।

তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-সেন্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।

কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 

যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।

সূত্র: বাসস

কিউএনবি/অনিমা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/দুপুর ১:২৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit