শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‘গেরুয়া’ দলে যোগ দিয়ে যে বার্তা দিলেন অভিনেত্রী মানসী ধর্ম যাই হোক, রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান : সড়ক প্রতিমন্ত্রী সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত হয়নি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলাম গাজায় ধ্বংসস্তূপে তাবু টানিয়েই চলছে দন্তচিকিৎসা নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিভাবে, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না: জেডি ভ্যান্স দেশের সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে : আইনমন্ত্রী ওজন কমানোর প্রভাবে বদলে যেতে পারে ক্ষুধা, ঘুম ও মানসিক অবস্থা ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? গাজা থেকে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ইসরাইলের

ইরানের সাথে চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ যুক্তরাষ্ট্র, তবে চূড়ান্ত নয়: ভ্যান্স

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

ডেস্কনিউজঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি থাকলেও চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এদিকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, “আমরা এখনও লক্ষ্যে পৌঁছাইনি। তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “কখন বা আদৌ” কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

জানা গেছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের নেতৃত্ব একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামোতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম দাবি করেছে, কোনো চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ভ্যান্স বলেন, আলোচনায় “ভাষাগত কয়েকটি বিষয়” এবং বিশেষ করে “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ” নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে আসছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান মজুত নিষ্পত্তি করতে হবে, যাতে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা না যায়।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ইরান “সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই” আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশ একটি সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্র রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বৃহস্পতিবার পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসায় আলোচনা প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের দাবি খণ্ডন করেছে এবং প্রস্তাবিত সমঝোতা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে “বিকল্প বি”—অর্থাৎ পুনরায় সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা হতে পারে। এছাড়া ইরানকে ওই নৌপথ থেকে মাইন অপসারণের জন্য ৩০ দিন সময় দেয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ইরানকে পুনরায় তেল রপ্তানির সুযোগ দিতে পারে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া দেখানো হলেও তিনি তাৎক্ষণিক অনুমোদন দেননি। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি আরও কয়েকদিন সময় নিতে পারেন।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার একটি অনানুষ্ঠানিক ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অংশ প্রকাশ করেছে। সেখানে ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে বেসামরিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস ওই খসড়াকে “সম্পূর্ণ মনগড়া” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানে নতুন মার্কিন হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তা অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, “কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি এবং সব আকাশযান নিরাপদ রয়েছে।”

সূত্র : বিবিসি

কিউএনবি/বিপুল/২৯.০৫.২০২৫/দুপুর ১.৪২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit