মনিরুল ইসলাম মনি : শার্শা(যশোর) : কাল মঙ্গলবার দক্ষীন বঙ্গের সর্ববৃহৎ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাট কোরবানী ঈদের শেষ হাট। বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাটটি গরু-ছাগল, ভেড়া, মহিষ ক্রয়-বিক্রয়ে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। দক্ষীন-পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই পশু হাটে কোরবানীর পশু কিনতে ও বেচতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়।
এই হাটে চাহিদার প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকার ছোট, বড় গরু, ছাগল, ভেড়া , মহিষ, দুম্বাসহ অনেক পশু প্রদর্শিত হয়। যে কারনে মানুষ তার চাহিদা মোতাবেক পছন্দের পশু এই হাট থেকে সংগ্রহ করে। তাই কাল মঙ্গলবার এই সাতমাইল পশু হাটের শেষ হাট। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এই হাটে পশু বিক্রি হয়ে থাকে। তবে এ বছর এই হাটে ভারতীয় কোন গরু উঠেনি। সীমান্তে বিজিবি’র কড়া পাহারার কারনে শার্শা ও বেনাপোল সীমান দিয়ে কোন গরু পারাপার হয়নি।
শার্শা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় প্রায় ১০৯৫ টি ছোট বড় খামার রয়েছে। এ সব খামার থেকে এ বছর কোরবানীর জন্য ষাড় ২৪৮৫, বলদ ৭৪,গাভী ১০২৩, ছাগল ১২১৭১টিসহ সর্ব মোট গবাদি পশুর সংখ্যা ১৫৭৫৩টি মজুদ হয়েছে। এবছর কোরবানীর চাহিদা ১২৩৫৮টি পশু। এ বছর শার্শায় কোরবানীর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত পশুর পরিমান ৩৪০৫টি ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর দক্ষীন- পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ শার্শা উপজেলা বাগআঁচড়া সাতমাইল পশু হাটে পর্যাপ্ত পরিমানে পশু আমদানি হয়েছে। এই হাটে ক্রেতার দাবি বিক্রেতারা পশুর দাম বেশি চাচ্ছে। আবার অপরদিকে বিক্রেতারা জানান, দেশে পশু খাদ্যের মুল্য অনেক বেশি। পশু খামারে অনেক খরচ। এ জন্য পশু পালন ব্যায় বহুল। সে তুলনায় পশুর দাম অনেক কম। পশু বিক্রেতারা আশা করছে মঙ্গলবারের শেষ হাটে তারা তাদের সকল পশু কাঙ্খিত মুল্যে পশু বিক্রি করবে। ক্রেতারা চাচ্ছে শেষ হাটে পশুর দাম অনেকটা কমবে ।
সেই ভরসা নিয়ে কালকের সাতমাইল পশু টাজ জমজমাট হবে বলে সকলের ধারনা। এ ব্যাপারে হাট ইজারা কমিটির মন্তব্য কাল মঙ্গলবার হাটে হাজার হাজার গরু , মহিস ও ছাগল, ভেড়া বেচা কেনা হবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারন ক্রেতা ও ব্যাপারী এসে এই হাট থেকে হাজার হাজার পশু ক্রয়Ñবিক্রয় করবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার তপু কুমার সাহা বলেন, এ বছর শার্শা উপজেলায় কোরবানীর পশুর চাহিদা ১২৩৪৮টি পশু। সেই তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩৪০৫টি পশু। তিনি বলেনএ বছর সীমান্তের কাটা তারের ভেড়া ভেদ করে ভারতীয় কোন পশু আমদানি হয়নি। যে কারনে খামারীরা তাদের পশু নেয্য মুল্যে বিক্রি করে লাভবান হবে।
তিনি বলেন সীমান্তে বিজিবি’র কড়া পাহারার কারনে চোরাকারবারীরা ভারতীয় গরুর ব্যবসায় সুবিধা করতে পারেনি। শার্শা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার তপু কুমার সাহা বলেন গরু মোটা তাজা করতে খামারীকে প্রয়োজনমত উন্নত মানের ঘাষ লাগাতে হবে। গরুকে সুষম দানাদার খাবার খাওয়াতে হবে। তাহলে খামারীদের থেকে নিরাপদ মাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে জানান।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ মে ২০২৬,/দুপুর ১:৪৪