স্পোর্টস ডেস্ক : এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি লিটনের। ওয়ানডেতেও অভিষেক হয় ভারতের বিপক্ষে ওই ঐতিহাসিক সিরিজে, যে সিরিজে মাহেন্দ্র সিং ধোনির পূর্ণ শক্তির ভারতকে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুর সময়টাতে নিজেকে তুলে ধরতে ভালোই বেগ পেতে হিয়েছে লিটনকে।
২০১৫ সালের ১৮ জুন ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় লিটনের। প্রথম বছর ৯টি ওয়ানডে খেলে করেন কেবল ১২৪ রান। ওই বছর নিজেকে তেমন প্রমাণ না করতে পারায় ২০১৬ সালে এই ফরম্যাটে সুযোগই পাননি। ২০১৭ সালে আবার ফেরেন লিটন। তবে এবার ৩ ম্যাচ খেলে আবারও ফ্লপ। সেঞ্চুরি তো দূরে থাক, এই ১২ ওয়ানডেতে একটি ফিফটির দেখাও পাননি লিটন।
তবে প্রতিভার কোনো ঘাটতি ছিল না লিটনের। ক্রিকেটমহলে সবসময়ই তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাধর’ একজন ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য করা হয়। সেটার প্রতিদানই ২০১৮ সালে দেন লিটন। ১২ ওয়ানডেতে করলেন ৩৪০ রান। একটি ফিফটি এবং ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি।
পরের দুটো বছরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালোই কেটেছে লিটনের। বলতে গেলে এই ফরম্যাটে তার সেরা সময় গেছে তখনই। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৯৪ রানের অপরাজিত একটি ইনিংসে বিশ্ববাসীর কাছেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ওই ইনিংসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধারভাষ্যকার ইয়ান বিশপ সেই বিখ্যাত লাইন উচ্চারণ করেন ‘লিটন কুমার দাস পেইন্টিং মোনালিসা হেয়ার।’ পরের বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২৬ এবং ১৭৬ রানের ইনিংস। অনেকে তখন ধরেই নিয়েছিলেন, নিজেকে বদলে ফেলে ভরসাযোগ্য হয়ে উঠছেন লিটন।
তবে গত ৫-৬ বছরে কখনোই নিজেকে সেই ভরসার পাত্র হিসেবে প্রমাণ করতে পারেননি লিটন। ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। মাঝেমধ্যে দুয়েকটা ইনিংসে বেশ ভালো করলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ঘাটতিটা এখনও রয়ে গেছে।
সবশেষ ১৮ ওয়ানডেতে লিটনের কোনো ফিফটিও নেই। এই সময়ে মাত্র ১৮.৪৩ গড়ে তিনি করেছেন ২৯৫ রান। মাঝে ৯ ইনিংসে দুই অঙ্কও ছুঁতে পারেননি। এই সময়ে তাকে ওপেনিং থেকে সরিয়ে মিডল অর্ডারে ফেরানো হয়। তাতে অবশ্য ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছেন লিটন। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তিনি করেছেন সমান ৪১ রান। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কিউইদের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৪৬ রান।
আজ ক্যারিয়ারের শততম ওয়ানডে মাঠে নেমেছেন লিটন। শততম ক্যাপটা তাকে পরিয়ে দিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ৯৯ ম্যাচের ৯৮ ইনিংসে ব্যাটিং করে ৩০.৩৩ গড় ও ৮৫.৭৬ স্ট্রাইক রেটে ২ হাজার ৭০০ রান করেছেন লিটন। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১২ ফিফটির সঙ্গে ৫টি সেঞ্চুরি এসেছে তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের জার্সিতে লিটনের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে মাত্র ৩ জনের। বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের ১৪, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম করেছেন ৯টি করে সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশের হয়ে লিটনের আগে ১৩ জন ১০০ বা তার বেশি ওয়ানডে খেলেছেন। সবচেয়ে বেশি ২৭৪ ম্যাচ খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া সাকিব আল হাসান ২৪৭, তামিম ইকবাল ২৪৩, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৩৯, মাশরাফি বিন মুর্তজা ২১৮, মোহাম্মদ আশরাফুল ১৭৫, আব্দুর রাজ্জাক ১৫৩, খালেদ মাসুদ পাইলট ১২৬, মোহাম্মদ রফিক ১২৩, মোস্তাফিজুর রহমান ১১৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ১১৮, হাবিবুল বাশার সুমন ১১১ ও রুবেল হোসেন খেলেছেন ১০৪ ওয়ানডে।
কিউএনবি/আয়শা/২০ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ৮:০০