সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি বাতিলের আহ্বান স্পেনের

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট বা অংশীদারিত্ব চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ছিন্ন করার জন্য স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অনুরোধ জানাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। 

রবিবার (১৯ এপ্রিল) আন্দালুসিয়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সানচেজ স্পষ্ট করে বলেন, একটি সরকার যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক নীতি ও মূল্যবোধের তোয়াক্কা করে না, তারা কোনোভাবেই ইইউ-র অংশীদার হতে পারে না। মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্পেন এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সদস্য দেশগুলোকেও স্পেনের এই প্রস্তাব সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে স্পেনের কোনো বিদ্বেষ নেই, তবে বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে তারা একমত নন। সানচেজ বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে একটি ‘বিরাট ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরোর অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। যুদ্ধের সূচনাকারীদের প্রতি অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে থামানোর জোর দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড প্রথমবার ইসরায়েলের সঙ্গে করা এই চুক্তিটি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। ইইউ-ইসরায়েল চুক্তির আওতায় একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং অন্যান্য সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও এতে মানবাধিকার রক্ষার একটি বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। 

২০২৫ সালের মে মাসে ইইউ এই চুক্তিটি পর্যালোচনায় সম্মত হয় এবং এর এক মাস পর ইউরোপীয় কমিশন জানায় যে ইসরায়েল মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করতে পারে এমন ‘লক্ষণ’ পাওয়া গেছে। তবে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি। সম্প্রতি মাদ্রিদ আবারও আয়ারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়ার সঙ্গে মিলে এই চুক্তি বাতিলের আলোচনাটি নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্পেনের এই কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ইসরায়েল ইস্যুতে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সানচেজের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ফলে ইউরোপের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

সানচেজ বিশ্বাস করেন, কেবল অর্থনৈতিক অবরোধ বা কূটনৈতিক চাপই পারে ইসরায়েলি সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে। লুক্সেমবার্গের বৈঠকে স্পেনের এই প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ইইউ-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কিউএনবি/অনিমা/২০ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ২:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit