আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের কারণে জেট জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি তীব্র আকার ধারণ করায় প্রথম বৃহৎ এয়ারলাইন হিসেবে বহু উড়োজাহাজ আপাতত বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লুফথানসা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জার্মানির লুফথানসা জানায়, তারা শিগগির সর্বোচ্চ ২৭টি উড়োজাহাজ বসিয়ে রাখবে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রথম বড় এয়ারলাইন এটি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ইজিজেট সতর্ক করেছে, তাদের বুকিং গত বছরের তুলনায় কমছে।
একই সময়ে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার এয়ারলাইনগুলো সম্পূর্ণভাবে সব ফ্লাইট বন্ধের হুমকি দিচ্ছে, কারণ জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার ও এয়ারলাইনগুলো ক্রমেই জরুরি সতর্কতা জারি করছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের পর থেকেই এয়ারলাইনগুলো ভাড়া বাড়িয়েছে, জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছে এবং খরচ কমাতে ও নগদ অর্থ সংরক্ষণে কিছু রুট কমিয়েছে।
এয়ারলাইনগুলো সতর্ক করে বলেছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের শীর্ষ মৌসুমের আগে ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটাবে ও সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলবে উড়োজাহাজ খাতকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে আরও সক্ষমতা হ্রাস, বিমান বসিয়ে রাখা ও অতিরিক্ত চার্জ আরোপ হতে পারে। যুদ্ধের প্রভাব কতটা পড়ছে, তা বোঝার জন্য বিনিয়োগকারীরা এয়ারলাইনগুলোর আর্থিক ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন।
এদিকে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তজনার জেরে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এতে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৯ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যার প্রভাব পড়েছিল বিশ্বব্যাপী।
সূত্র : দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
কিউএনবি/অনিমা/১৮ এপ্রিল ২০২৬,/সকাল ৭:২০