আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক বাড়ির কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে। এরফলে একদিকে ময়লার দুর্গন্ধে বসবাসরতদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর লেখাপড়া বেহাত হচ্ছে।
পরে বুধবার সকালে সরেজমিনে আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট ব্লক-সি মৌসুমী মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে জানা যায় যে, ওই এলাকার মৃত হানিফের বাড়ির কেয়ারটেকার মালেকা বেগমের নির্দেশে তার ভাড়াটিয়ারা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলে অন্য বাড়ীর জানালার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এরফলে পাশ্ববর্তী বাড়ির ভাড়াটিয়াদের বসবাসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে এমনটাই অভিযোগ তাদের।
পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বললে তারা জানান, মালেকা বেগমের নির্দেশে তার ভাড়াটিয়ারা নিয়মিত জানালার পাশে ময়লা ফেলার কারণে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধে মশা মাছিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন। এদিকে অভিযুক্ত মালেকা বেগমের ভাড়াটিয়ারা বলেন, আমরা আগে নিয়মিত নির্ধারিত ডাস্টবিনেই ময়লা ফেলতাম। তবে বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের বাড়ির মালিক মালেকা বেগম ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলে ওই জানালার পাশে ফেলতে বলেছেন। আমরা যেহেতু তার বাসায় থাকি, সেহেতু তার কথাতো শুনতে হবে। তাই আমরা ওইখানে ময়লা ফেলছি। আমাদের কিছুই করার নেই।
অন্যদিকে পাশ্ববর্তী এক ভাড়াটিয়ার সন্তান আগামীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। তার সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সামনে আমার পরীক্ষা। তারা যেখানে ময়লা ফেলে তার পাশেই আমার পড়ার রুম। যখনই জানালা খুলি তখনই একদিকে দুর্গন্ধ, অন্যদিকে মশা-মাছি রুমে ঢুকে পড়ে। ফলে আমার লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে। আমি এর প্রতিকার চাচ্ছি।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী মাকসুদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একাধিকবার নিষেধ করার পরও এ কাজ বন্ধ হয়নি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে করে ভাড়াটিয়াসহ শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারেন। পরে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার মালেকা বেগমের সঙ্গে সরেজমিনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা বিষয়টি আমাকে জানানোর পরে আমি একাধিকবার নিষেধ করলেও একই স্থানে ময়লা ফেলা বন্ধ হয়নি। ওই মহিলা কারও কথা শুনছে না। আমিও এর প্রতিকার চাই। এবং সেই সাথে ঢাকা ১৯ এর সংসদ সদস্য ডা: দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু সাভার ও আশুলিয়াকে গ্রীণ এন্ড ক্লিন গড়ার লক্ষ্যে যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন, তাঁর পাশাপাশি আমরা যারা আছি আমাদেরকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দুষণ মুক্ত পরিবেশ গড়তে আরও সহজ হবে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ আছে কিনা জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ দুষণ ও প্রতিবেশীদের দুর্ভোগে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ এপ্রিল ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪০