শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩০ Time View

ডেস্ক নিউজ : সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া-মাহফিল, দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা আয়োজনে বৃহস্পতিবার উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিনভর রাজধানীসহ সারা দেশে, সেই সঙ্গে বিদেশেও বাংলাদেশ দূতাবাসে একাত্তরের বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের মূল আয়োজন ছিল সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। শ্রদ্ধা-ভালোবাসার ফুলে ছেয়ে যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতির মুক্তির সংগ্রামে বীর শহীদদের আত্মদানের কথা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া জাতীয় নেতৃবৃন্দ সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সর্বস্তরের মানুষ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন।

ভোরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে দলীয় প্রধান হিসাবে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সময়ে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি যথারীতি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। 

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসাবে দলের নেতাকর্মীদের নিয়েও শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব বীর সন্তানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদনের এসব আয়োজনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। এর আগে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনক্ষণে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধামন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হলে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করেন। এ সময় ফুলে ফুলে ভরে যায় স্মৃতিসৌধের মূল বেদি। 

নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার : শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুখী, সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দেশের মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, এবার আমরা সবাই নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছি। সেই লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করব। এ সময় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৯ মাস সেই যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন হয়েছি। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আজ একটি ভিন্ন পরিবেশে আমরা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে পারছি। আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত, ফ্যাসিস্টমুক্ত পরিবেশে দিনটি উদযাপন করছি। আমাদের একটাই দুঃখ, এই দিনে আমাদের স্বাধীনতার আরেক সংগ্রামী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় তিনি বলেন, আমরা একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এটি রাষ্ট্রের একটি সর্বোচ্চ আচার। সবার মতো আমরাও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম আমাদের বীর ও শহীদদের প্রতি। জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহর দরবারে আমরা দোয়া করেছি, এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব যেন টিকে থাকে। এই দেশের মানুষের ওপর আল্লাহ যাতে শান্তি ও রহমত বর্ষণ করেন। একটা অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ আমরা সবাই মিলে যেন গঠন করতে পারি। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা ঐকমত্য পোষণ করব।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের ৭১-এর যে আকাঙ্ক্ষা এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তার ভিত্তিতে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে আমরা এই বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এটার জন্যই এই মুহূর্তে কাজ করছি। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলেই আমাদের নতুন প্রজন্মকে আবারও রক্ত দিতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। আমরা চাই, সামনে যাতে আর এমন না হয়। এ সময় সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বঙ্গভবনে সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন : বিকালে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দুপুর আড়াইটা থেকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের সবুজ লনে আয়োজিত এ সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, সংসদ-সদস্য, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে কেক কাটেন। স্বাধীনতা দিবসে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা রেবেকা সুলতানা। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে গেলেন তারেক রহমান। 

নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন : জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বৃহস্পতিবার সকালে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও উত্তোলন করা হয় বড় আকারের জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভবনসহ বহুতল ভবনেও পতাকা ওড়ানো হয়। দেশের বাইরে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এদিকে দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা এবং বরিশালে বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে অবস্থান করছে। এছাড়া চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জে কোস্টগার্ডের জাহাজও উন্মুক্ত রাখা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-২০ ক্রিকেট, কাবাডি ও হাডুডুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিল। ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় জাদুঘরসহ সব জাদুঘর সারা দিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা ছিল। শিশুদের জন্য খোলা ছিল সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রও।

শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও ছিল বিশেষ প্রার্থনা। দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বিভিন্ন কল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) দিবসটি উদযাপন করেছে। দিবসের শুরুতে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বিএমইউর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে এ ব্লকের দ্বিতীয় তলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে স্বাধীনতা দিবস : স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। শুরুতেই প্রদর্শিত হয় তথ্যচিত্র ‘দ্য পিপলস প্রেসিডেন্ট’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনা শেষে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী খুরশিদ আলম, ফেরদৌস আরা, রিজিয়া পারভীন, আলম আরা মিনু, মনির খান, দেবলীনা সূর, নাসির, সাদমান পাপ্পু, ইথুন বাবু, মৌসুমী, পলাশ সাজ্জাদ, পরাণ হাসান ও আকলিমা মুক্তা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস ও কালারস অব হিলের শিল্পীরা। আবৃত্তি করেন টিটো মুনসী। এর আগে সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন একাডেমির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিল্পীরা। 

অন্যদিকে আলোচনা, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে ছায়ানট। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। ‘বলো বলো রে বলো সবে’ শীর্ষক যৌথ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। এরপর ধারাবাহিকভাবে জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’, ইত্যাদি কবিতার উচ্চারণে উঠে আসে বাঙালির সংগ্রাম, শোক, প্রতিবাদ ও জাগরণের ইতিহাস। অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন গার্গী ঘোষ, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, শরিফুর রহমান প্রমুখ। সবশেষে পরিবেশিত হয় নাট্যাংশ ‘নূরলদীনের সারাজীবন’। 

শিশু একাডেমি : আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু ও সমন্বয়) শবনম মোস্তারী। শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিশু নাবিলা কবির রিচি ও তাশফিনা রহমান খান বিহানের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর : গান-কবিতায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। আয়োজনের অংশ হিসাবে পর্বতারোহীদের সংগঠন ‘অভিযাত্রী’ এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিচালিত ‘শোক থেকে শক্তি : অদম্য পদযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শপথপাঠের মাধ্যমে শেষ হয় পদযাত্রাটি। এই পথযাত্রাটি ছিল ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাঙালির আত্মপরিচয় গড়ে ওঠার ইতিহাসকে নিজের ভেতরে ধারণ করার এক প্রতীকী প্রয়াস। অন্যদিকে সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর আনন্দানুষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের আনন্দানুষ্ঠানে অংশ নেয় এসওএস শিশু পল্লী, মুকুল ফৌজ (মিরপুর), আনন্দলোক সাংস্কৃতিক একাডেমি, বধ্যভূমির সন্তানদল ও মম কালচারাল একাডেমি। 

গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য : আলোচনা, গান, আবৃত্তি, নৃত্য, মূকাভিনয় ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার ৫৬তম দিবস উদযাপন করেছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন দেশের অগ্রগণ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীরা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৭ মার্চ ২০২৬,/দুপুর ২:২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit