স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সামনে তাই টসে জেতার পরই কঠিন সিদ্ধান্তের পরীক্ষা অপেক্ষা করছে; আগে ব্যাটিং, নাকি পরে রান তাড়া?
শিশিরের প্রভাব
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম আরব সাগরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় সন্ধ্যার পর এখানে দ্রুত শিশির পড়ে। দিনভর তাপমাত্রা বেশি থাকলেও সূর্য ডোবার পর সমুদ্রের দিক থেকে আসা আর্দ্রতা মাঠে ঘনীভূত হয়। এর ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডিং করা দলের জন্য বল ধরা ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্পিনারদের গ্রিপ কমে যায়, পেসারদের লাইন–লেন্থ নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা হয়। অন্যদিকে ভেজা ঘাসে বল দ্রুত ব্যাটে আসে, যা রান তাড়া করা দলকে সুবিধা দেয়।
পরিসংখ্যান কী বলছে
ওয়াংখেড়েতে টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত পরে ব্যাট করা দল বেশি সফল। এখানে এখন পর্যন্ত ফিল্ডিং করা দল জিতেছে ১২৩ ম্যাচ। আগে ব্যাট করা দল জিতেছে ৯২ ম্যাচ। তবে চলতি আসরে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এই আসরে ওয়াংখেড়েতে হওয়া সাতটি রাতের ম্যাচের তিনটিতে আগে ব্যাট করা দলই সফলভাবে রান ডিফেন্ড করেছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৬১ রান করে ২৯ রানে জেতে। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯৬ রান তুলে ইংল্যান্ডকে ৩০ রানে হারায় এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫৪ রান করে বড় জয় তুলে নেয়।
রাত বাড়লে বাড়বে শিশির
মুম্বাইয়ে বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর রাত ৮টার পর শিশিরের প্রভাব বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশির নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল বলেছিলেন, ‘শিশির সব সময়ই একটা বড় চিন্তার বিষয়। তবে এটা এমন কিছু যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ওয়াংখেড়েতে বাড়তি বাউন্স থাকে, ব্যাটসম্যানরা লাইনে এসে শট খেলতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটা বোলারদের জন্যও সুযোগ তৈরি করে।’
স্পিন বনাম পেস
ইতিহাসে ওয়াংখেড়েতে পেসাররাই বেশি সফল। এখানে পেসারদের উইকেট সংখ্যা স্পিনারদের প্রায় দ্বিগুণ (১৬৩৫ বনাম ৭৮১)।
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে পার্থক্য প্রায় নেই—
স্পিনার: ৪০ উইকেট, গড় ২৪.৬৫, ইকোনমি ৮.০১
পেসার: ৪৩ উইকেট, গড় ২৭.০০, ইকোনমি ৯.১০
তবে ম্যাচে যদি দ্রুত শিশির নামে, তাহলে তুলনামূলক কম ইকোনমি থাকা স্পিনাররাই প্রথম ধাক্কা খেতে পারেন।
টসের সিদ্ধান্ত
সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে আগে ব্যাট করে বোর্ডে রান তোলা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে প্রতিপক্ষের ওপর। পিচ যদি শুরুতে কঠিন থাকে, তবে ১৭০ রানও ম্যাচ জেতার মতো স্কোর হতে পারে। অন্যদিকে, শিশির যদি বেশি পড়ে, তাহলে পরে ব্যাট করা দলের জন্য বড় লক্ষ্যও তাড়া করা সহজ হয়ে যেতে পারে।
কিউএনবি/আয়শা/০৫ মার্চ ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫০