আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে তেহরানের শাসকবর্গ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় উত্তরসূরি নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নতুন নেতৃত্বের জন্য তার কাছে তিনজনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তার কাছে তিনটি চমৎকার বিকল্প রয়েছে, তবে এখনই তিনি তাদের নাম প্রকাশ করবেন না। মূলত তেহরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং এর পরেই তিনি নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করতে চান।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভূ-মধ্যসাগরীয় কৌশলগত গবেষণা ফাউন্ডেশনের পরিচালক পিয়েরে রাজক্স জানিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনসহ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।
ইরানের দমনমূলক যন্ত্র হিসেবে পরিচিত ৬ লাখ বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক এবং ২ লাখ ৫০ হাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিশাল বহর সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষের রাজপথে নামার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু মানেই এই ব্যবস্থার অবসান নয়, কারণ ইরানের শাসনকাঠামো অনেকগুলো শক্তি কেন্দ্রের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষক থিও নেনচিনি মনে করেন, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বা পাসদারান এই সুযোগে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। যদিও তাদের শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছেন, তবুও এই বাহিনীটি রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী।
এছাড়া ৩ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের নিয়মিত সেনাবাহিনীও ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যদি সেনাবাহিনী গার্ডসদের থেকে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নেয়, তবে ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও প্রবাসী বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এখনও ঐক্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট। কারাবন্দি নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদী বা নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভির মতো ব্যক্তিত্বরা আলোচনায় থাকলেও ইরানের ভেতরে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানী আজাদেহ কিয়ান মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো বর্তমান শাসনের কোনো মধ্যপন্থি অংশের সঙ্গে সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত পাসদারান বাহিনী একটি সম্পূর্ণ সামরিক জান্তা গঠন করবে নাকি কোনো ধর্মীয় প্রলেপ বজায় রেখে নতুন কেউ ক্ষমতায় আসবে, তা আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে।
সূত্র: হুরিয়েত ডেইলি নিউজ।
কিউএনবি/আয়শা/০২ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৫:০০