শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

আইন অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য কী কী সুযোগ-সুবিধা পান?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৯৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ করা হয় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে।

বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই আইনের সংশোধন হয়।
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি পরিবহন, অফিস পরিচালনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি, বীমাসহ নানা ধরনের সুযোগ–সুবিধা ভোগ করেন। একজন সংসদ সদস্য মাসিক মূল বেতন হিসেবে পান ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনি এলাকা ভাতা হিসেবে মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
পরিবহন ভাতা হিসেবে সংসদ সদস্যরা মাসে ৭০ হাজার টাকা পান। এই ভাতার আওতায় জ্বালানি ব্যয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা আরও কিছু ভাতা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা, যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত।
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই একটি গাড়ি, জিপ অথবা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই শর্তে পুনরায় নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে।
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সংসদের অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা এবং দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতের জন্য কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও রয়েছে।
সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন। একইভাবে সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বীমা কার্যকর হয়।
এ ছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয়ের বিধান রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ প্রদান করা হয়। এ খাতে মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা যে সব ভাতা পান, সেগুলো সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit