রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম

যে তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ কখনো ফিরিয়ে দেন না

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়া বেরিয়ে আসে— নিঃশব্দে, কিন্তু প্রবল বিশ্বাস নিয়ে। ইসলাম আমাদের জানিয়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা সব দোয়া শোনেন; তবে কিছু দোয়া রয়েছে যেগুলো আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন এবং কখনো ফিরিয়ে দেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সেই সৌভাগ্যবান দোয়াকারীদের কথা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। এই হাদিস শুধু আশার বার্তা নয়, বরং আমাদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কেও গভীর শিক্ষা দেয়।

হাদিসের বর্ণনা

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الصَّائِمُ حِينَ يُفْطِرُ، وَالإِمَامُ الْعَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ، يَرْفَعُهَا اللَّهُ فَوْقَ الْغَمَامِ، وَيَفْتَحُ لَهَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ، وَيَقُولُ الرَّبُّ: وَعِزَّتِي لَأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ

তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—

১. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া;

২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া;

৩. মজলুম বা অত্যাচারিতের দোয়া।

মজলুমের দোয়া আল্লাহ তাআলা মেঘমালার ওপর তুলে নেন এবং তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সাহায্য করব, কিছু সময় দেরি হলেও।’ (তিরমিজি: ৩৫৯৮)

হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

১. ইফতারের সময়—দোয়ার স্বর্ণক্ষেত্র

রোজাদার সারাদিন সংযম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে নিজের নফসকে দমন করেন। ইফতারের মুহূর্তে এই আত্মসংযমের পর হৃদয় থাকে নরম ও বিনয়ী। তাই এই সময় দোয়া কবুল হয়। এটি আমাদের শেখায়— ইফতারের আগে দুনিয়াবি ব্যস্ততায় নয়, দোয়ায় মনোযোগী হওয়া।

২. ন্যায়পরায়ণতার শক্তি

ন্যায়পরায়ণ শাসক শুধু প্রশাসক নন, বরং সমাজে আল্লাহর ন্যায়বিচারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার দোয়া কবুল হওয়া প্রমাণ করে— ন্যায় ও ইনসাফ আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়।

৩. মজলুমের দোয়ার ভয়াবহ শক্তি

আল্লাহর সঙ্গে মজলুমের কোনো পর্দা নেই। তার চোখের জল, কষ্টের আর্তনাদ সরাসরি আরশের দিকে উঠে যায়। দেরি হতে পারে, কিন্তু অবিচারী কখনো রেহাই পায় না— এটাই আল্লাহর অকাট্য ঘোষণা। কুরআনেও আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ

‘জালিমরা যা করে, আল্লাহ তা সম্পর্কে উদাসীন নন।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৪২)

হাদিসের আলোকে আমাদের করণীয়

> ইফতারের আগে দুনিয়াবি কথাবার্তা কমিয়ে আন্তরিকভাবে দোয়া করা

> অন্যের ওপর জুলুম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা

> কারও অধিকার নষ্ট হলে দ্রুত তা ফিরিয়ে দেওয়া

> মজলুমের পাশে দাঁড়ানো, তার পক্ষে কথা বলা

>  ক্ষমতা বা দায়িত্বে থাকলে সর্বোচ্চ ন্যায়পরায়ণ হওয়ার চেষ্টা করা

কারণ, আজ যে জুলুম করছে—আগামীকাল সে নিজেই মজলুম হয়ে আল্লাহর দরজায় দাঁড়াতে পারে।

এই হাদিস আমাদের জন্য একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে কঠিন সতর্কবার্তা। রোজাদারকে দোয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে বলে, শাসককে ন্যায়পরায়ণ হতে শেখায় এবং জালিমকে মনে করিয়ে দেয়— মজলুমের দোয়া কখনো ব্যর্থ হয় না। সময় লাগতে পারে, কিন্তু আল্লাহর সাহায্য অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের কবুল দোয়ার সৌভাগ্য দান করেন এবং কাউকে মজলুম করার গুনাহ থেকে হেফাজত করেন। আমিন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit