তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিরোধ লড়াইয়ে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার জনগণের সাথে সংহতি জানাচ্ছি। ভেনেজুয়েলা একা নয়।’ ২০০৬ সাল থেকে ২০১৯ সালে পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বলিভিয়ার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইভো মোরালেস।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ এবং আমেরিকান স্টেটস অর্গানাইজেশনে (ওএএস) জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে হামলার পরপরই নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় পেত্রো বলেন, ‘তারা এই মুহূর্তে কারাকাসে বোমা হামলা চালাচ্ছে। পুরো বিশ্ব সতর্ক হোন, তারা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করেছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমা হামলা চালাচ্ছে। ওএএস এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে বৈঠকে বসতে হবে।’
পেত্রো আরও বলেন, কলম্বিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য এবং অবিলম্বে জরুরি বৈঠক ডাকা উচিত। তার ভাষায়, ‘ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের আন্তর্জাতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করুন। কুকুটায় (ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কলম্বিয়ার শহর) সীমান্তরক্ষীদের সক্রিয় করা হয়েছে এবং সীমান্তে অভিযানের পরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে।’
কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকি-ধামকির পর আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদন মতে, ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
এরপর হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সিবিএসকে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, মার্কিন বাহিনী ‘ভেনেজুয়েলা এবং এর নেতার বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ পরিসরে হামলা‘ চালিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচালিত অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং বিমানে করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’।
এদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে ‘আগ্রাসন’ চালিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘সামরিক আগ্রাসন’ প্রত্যাখ্যান করছে। পরিস্থিতি মোকাবিরায় ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সেই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করেছেন।