নিউজ ডেক্স : ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিকের পরিবেশ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। দশদিন পর সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ, চলে লুকোচুরি খেলা। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন শতশত রোগী কুড়িগ্রাম আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে শীতের প্রভাবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় প্রয়োজনীয় বেডের অভাবে মেঝেতে বিছানা করে থাকছেন রোগীরা।
কড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আল আমিন জানান, তীব্র শীতের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। কুড়িগ্রাম পৌরসভার বৈশ্যপাড়া এলাকার দিনমজুর আজাদ ও নির্মল বলেন , শীতের তীব্রতায় তাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুররা পরেছেন বিপাকে। তাদের দুজনের হাতে কাজ নেই গত চার দিন থেকে। ধারকর্জ করে চলছেন বলে জানান তারা।
কুড়িগ্রাম জজ কোর্টে মামলায় হাজিরা দিতে আসা সোলায়মান, রফিকুল ও রাশেদুল জানান- তাদের বাড়ি রৌমারী। শুধুমাত্র কুয়াশার কারণে এক ঘণ্টার পথ ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিতে সময়লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ফলে আইনি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আর আসা-যাওয়ায় কষ্ট হয় অপরিসীম। ড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা এখনও তেমন বাড়েনি। এরপরও বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন যে রোগীরা আসছেন তারা আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ আছে।
কিউএনবি/মহন/ ০১ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ২:১২