মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল দিনের শুরুতে সদকা শেষ বেলায় ইস্তিগফার

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৭০ Time View

ডেস্ক নিউজ : মাওলানা শরিফ হাসান শাহীন

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সালফে সালেহিন আমাদের এমন কিছু পদ্ধতির শিক্ষা দিয়েছেন, যা পালন করলে একটি দিন বরকতময় ও নিরাপদ হয়, আর রাত হয় মাফ ও রহমতের আশ্রয়স্থল। এই আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, দিনের শুরুতে সদকা করা, দিনের শেষে ইস্তিগফার করা
দিনের শুরুতে সদকা, বরকতের দরজা
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

ما من يوم يصبح العباد فيه إلا ملكان ينزلان، فيقول أحدهما: اللهم أعط منفقاً خلفاً، ويقول الآخر: اللهم أعط ممسكاً تلفاً প্রত্যেক সকালে দুই ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন, হে আল্লাহ! যিনি দান করেন তাকে আপনি আরও দিন। অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! যে কৃপণতা করে, আপনি তার ধন-সম্পদ নষ্ট করে দিন। (সহিহ বুখারি:১৪৪২,সহিহ মুসলিম:১০১০)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, দিনের শুরুতেই দান বা সদকা করলে ফেরেশতা দোয়া করেন বরকতের জন্য। এটি শুধু অর্থনৈতিক দান নয়,কেউকে সাহায্য করা, খাদ্য দেওয়া, ভালো কথা বলা, এমনকি হাসিমুখে কারো সাথে দেখা করাও সদকা।

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

الصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الماءُ النَّارَ সদকা গুনাহকে নিভিয়ে দেয় যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। (সুনানুত তিরমিজি:২৬১৬)

দিনের শেষে ইস্তিগফার, মাফ ও নিরাপত্তার চাবি

সারাদিন কর্মব্যস্ততায় আমাদের মুখ ফসকে অনেক কথা বেরিয়ে যায়, অন্তরে অনেক খারাপ চিন্তা আসে, হাতে হয়তো গোনাহও হয়ে যায়, অনিচ্ছাকৃত কিংবা অজ্ঞাতসারে। দিনের শেষে,বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা শেষ রাতে,আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার করা মুমিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যাস।
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

من قال حين يأوي إلى فراشه: أستغفر الله الذي لا إله إلا هو الحي القيوم وأتوب إليه، غفر الله له ذنوبه وإن كانت مثل زبد البحر যে ব্যক্তি তার শয্যায় যাওয়ার সময় বলে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়াতুবু ইলাইহি, আল্লাহ তার সব গুনাহ মাফ করে দেন, যদি তা সাগরের ফেনার সমানও হয়। (সুনানুত তিরমিজি:৩৩৯৭)

আল্লাহ তাআলা বলেন, وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ আর তারা শেষ রাতে ইস্তিগফার করত। (সুরা জারিয়াত:১৮) এই আয়াতে আসহার  বলতে রাতের শেষ অংশকে বোঝানো হয়েছে, যা সাহরির সময়। এটা এমন সময়, যখন আল্লাহর দরবার রহমত ও মাগফিরাতে উন্মুক্ত থাকে। সাহাবায়ে কিরাম ও সালাফে সালেহিনরা এই সময়ে বিশেষভাবে ইস্তিগফার করতেন। এটি ছিল তাদের এক উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য। এ ইস্তিগফার সারাদিনের গাফিলতি, ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার মোক্ষম সময়।

দিনের শুরুতে নিরাপত্তা ও শেষে মাগফিরাত
দিনের শুরুতে সদকা করলে রিজিক বাড়ে, বিপদ দূর হয়, ফেরেশতার দুআ মিলে। রাতে ইস্তিগফার করলে সারাদিনের গাফিলতিও মাফ হয়, অন্তর নরম হয়, আগামী দিনের প্রস্তুতি হয়। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, طُوبَى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا ধন্য সেই ব্যক্তি যার আমলনামায় বেশি বেশি ইস্তিগফার থাকবে। (ইবনু মাজাহ: ৩৮১৮)
আমাদের করণীয়
১. প্রতিদিন সকালে সদকার কোনো একটি কাজ করুন, অর্থে হোক, কাজে হোক, মিষ্টি কথায় হোক। ২. রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে দিনটি স্মরণ করুন, অনুতপ্ত হোন, আস্তাগফিরুল্লাহ বলুন। এই দুটি অভ্যাস,দিনের শুরুতে সদকা এবং শেষে ইস্তিগফার,একটি মুমিনের জীবনকে বদলে দিতে পারে। এতে মানুষ পায় দুনিয়ার নিরাপত্তা, আখিরাতের মাগফিরাত এবং আল্লাহর ভালোবাসা। কুরআন সুন্নাহর আলোকে এটি স্পষ্ট যে, সদকা ও ইস্তিগফার কেবল নেক আমল নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির পথ। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই দুটো প্রিয় অভ্যাস গড়ে তোলার তাওফিক দেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৭ জুলাই ২০২৫,/রাত ৮:১৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit