রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাঠে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ফিফা, আসছে নতুন নিয়ম জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ, বিভাগীয় শহরে যখন দেখা যাবে মহাজাগতিক দৃশ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সকল প্রতিষ্ঠানকে বৈষম্যহীন ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শরীয়তপুর টাইলস-স্যানেটারী-থাই ও হার্ডওয়ার ব্যবসায়িদের ইফতার দিনাজপুরে চঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামী আমানুলের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী বড়পুকুরিয়ার কয়লাতে আগুন বিক্রি না করায় লাখ লাখ  টাকা রাজস্ হারাচ্ছে সরকার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সন্ধ্যায় মুখোমুখি ভারত-উইন্ডিজ জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষায় জুলাই সনদের নীতিতেই আছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎লালমনিরহাট খামারবাড়িতে উড়ছে না জাতীয় পতাকা, বিধিমালা জানেন না উপ-পরিচালক!

সাদ্দামের সেই বিলাসবহুল প্রাসাদ এখন বিশ্ববিদ্যালয়

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫
  • ৭৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাকের এক সময়ের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিলাসবহুল প্রাসাদ এখন বিশ্ববিদ্যালয়। তার অন্যতম নজরকাড়া আল-ফাও প্রাসাদটি বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বাগদাদ (এইউবি) নামে। সেখান থেকেই প্রথমবারের মতো স্নাতক সমাবর্তন উদযাপন করল ইরাকের শিক্ষার্থীরা। 

গত ২৪ মে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে ছিলেন মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী স্নাতক সম্মান লাভ করেন। ব্যবসা প্রশাসন, বিজ্ঞান এবং মানবিক শাস্ত্রে তারা ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশিষ্টিজন, শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

সোমবার আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমনই তথ্য।

সাদ্দাম হোসেনের আল-ফাও প্রাসাদটি ‘ওয়াটার প্যালেস’ নামেও পরিচিত। ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত প্রাসাদটি বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে, টাইগ্রিস নদী থেকে একটি কৃত্রিম হ্রদের মাঝে অবস্থিত। প্রাসাদটিতে মোট ৬২টি কক্ষ। দেয়াল-ছাদ-স্তম্ভ সবখানেই সাদ্দামের নাম খোদাই করা। 

ঢুকতেই ১০ মিটার উচ্চতার কারুকাজখচিত একটি প্রধান দরজা চোখে পড়বে। অন্দরমহলে মার্বেল মেঝে, সোনার প্রলেপযুক্ত বাথরুম, ২৫ ফুট উচ্চতার ছাদ। বিশাল ঝাড়বাতি। 

১৯৮৮ সালে ইরাকি বাহিনী আল-ফাও উপদ্বীপ পুনরুদ্ধার করেন। এরপরই বিজয় উদযাপন করতে সাদ্দাম হোসেন প্রাসাদটি নির্মাণের নির্দেশ দেন। ১৯৯০ দশকে প্রাসাদটি নির্মাণকাজে প্রায় ২,০০০ শ্রমিক নিযুক্ত ছিলেন। যাদের মধ্যে মরক্কো, মিসর, সুদান ও ইরাকের কারাবন্দিরাও ছিলেন।

প্রাসাদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের গল্প

২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর প্রাসাদটি মার্কিন বাহিনীর সদর দপ্তর হিসাবে ব্যবহৃত হয়। পরে ইরাকি উদ্যোক্তা সাদি সাইহুদের অর্থায়নে এটি একটি আমেরিকান আদলে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মাণের মূল লক্ষ্য ছিল ইরাকে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠা করা।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. মাইকেল মুলনিক্স বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে বিভিন্ন খ্যাতনামা ভ্যান্ডারবল্টি ইউনিভার্সিটি, কলোরাডো স্কুল অব মাইনস, লরেন্স টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, টেম্পল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার এবং রোমের সাপিয়েনজা ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ও অবহেলার কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি স্থাপনা আজ একটি মর্যাদাপূর্ণ, অলাভজনক একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে’।

চাকরির সুযোগ ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা 

স্নাতক মোহাম্মদ বাকির বলেন, ‘ইরাকে ভবিষ্যৎ সহজ নয়। আমাদের সবার উদ্বেগ রয়েছে। তবে এইউবির মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছি। যদিও আমার শিক্ষা খরচ প্রায় ১০ মিলিয়ন ইরাকি দিনার ছিল, তবে এটি একটি মূল্যবান বিনিয়োগ ছিল’। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা সাদি সাইহুদ উল্লেখ করেন, যদিও সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত, এইউবির শিক্ষার্থীরা বেসরকারি খাতে এবং উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হচ্ছেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৭ মে ২০২৫, /রাত ১২:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit