সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষতিপূরণ দাবি আমির খসরুর

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৬৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে বিএনপির যে নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে ‘হয়রানি’ করা হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে, সেই প্রশ্ন রেখেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালাস পাওয়ার পর রোববার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৪ এর বিচারক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রাজধানীর শাহবাগ থানার এ মামলায় আমির খসরুসহ পাঁচজনকে খালাস দেন।

পরে সাংবাদিকদের আমির খসরু বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৪২টা মামলা। বিগত বছরগুলোতে সপ্তাহে দুই দিন তো আমাদের কোর্টেই সময় দিতে হত। এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কতদিন লাগবে জানি না। আজকে একটার রায় হয়েছে। আরও অনেক মামলা আছে। বাংলাদেশে শুধু আমি না, বিএনপির ৬০ লাখের অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের জেলে নেওয়া হয়েছে। গুম, খুন করা হয়েছে। তাদের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। চাকরি-ব্যবসা ছাড়তে হয়েছে।

প্রশ্ন রেখে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই লোকগুলোর কী হবে। তাদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে। রাষ্ট্র কী এগুলোর ক্ষতিপূরণ দেবে? তাদের সম্পর্কে তো কোনো কথা শুনতে পাচ্ছি না। গণতন্ত্রের আন্দোলনের যারা মূল ভিত্তি সৃষ্টি করেছিল, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছর ধরে, তাদের কী হবে? তাদের কোনো খবর নিচ্ছে সেটা তো দেখতে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিগত দিনে যারা এ আন্দোলন এ জায়গায় নিয়ে এসেছিল, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, ১৫/১৬ বছর ধরে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে, সবকিছু হারিয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমার মনে হয় এ বিষয়টা আমাদের সকলের ভাবা দরকার। এ মামলায় খালাস পাওয়া বাকি চারজন হলেন- ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নাওমী, মো. রফিকুল ইসলাম নয়ন, হাবিবুর রহমান হাবিব ও রবিউল ইসলাম রবি।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাসচাপায় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছাত্র আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমির খসরুর একটি কথিত ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দাবি তুলে ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ডিবির তৎকালীন পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ।

এ মামলায় আমির খসরু ও ব্যারিস্টার মিলহানুর রহমান নাওমীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করা হয়। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে তখনকার ছাত্র আন্দোলনে উস্কানির জন্য তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান। ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৪ এর বিচারক ফাতিমা ইমরোজ ক্ষণিমা অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

 

কিউএনবি/আয়শা/২৭ এপ্রিল ২০২৫,/বিকাল ৫:৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit