শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে খুলনাকে বিদায় করে ফাইনালে চিটাগং

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৬৪ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ বলে চার রান প্রয়োজন ছিল চিটাগং কিংসের। অনেকটা সময় নিয়ে ফিল্ডিং সাজিয়েছিলেন খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই কাজে আসেনি। মুশফিক হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলটিকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে সীমানাছাড়া করেন চিটাগংয়ের স্পিনিং অলরাউন্ডার আলিস আল ইসলাম। আর তাতেই কেল্লাফতে! ২ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় চট্টলার দলটি। আর একরাশ হতাশা সঙ্গী করে বিদায় নেয় খুলনা।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২ ওভারেই ১০৫ রান তুলে ফেলেছিল চিটাগং কিংস। হাতে তখনো ৮ উইকেট। শেষ ৮ ওভারে প্রয়োজন ছিল কেবল ৫৯ রান, ওভার প্রতি ৭ রানের কিছু বেশি তুললেই চলত।

৩৫ রানে ২ উইকেট খোয়ানোর পর হুসেইন তালাত এবং ওপেনার খাজা নাফে-র জুটিতে কক্ষপথে ছিল তারা। তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার মিলে যোগ করেন ৪৮ বলে ৭০ রান। কিন্তু ইনিংসের ১৩তম ওভারের প্রথম বলেই ঘটে ছন্দপতন। নাসুমের বলে ক্যাচ তুলে দেন তালাত। ২৫ বলে ৫ চার এবং ১ ছক্কায় ৪০ রান করা এই ব্যাটারের ক্যাচ লুফে নিতে কোনো ভুল করেননি অ্যালেক্স রস।

আর ১৬তম ওভারের প্রথম বলে মুশফিক হাসান গুঁড়িয়ে দেন নাফে-র স্টাম্প। ৪৬ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় চিটাগংয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করা এই পাকিস্তানি ব্যাটারকে আউট করে জোরেশোরেই ম্যাচে ফেরে খুলনা। কিন্তু চিটাগংয়ের লেজের সারির ব্যাটারদের যে তখনো খেল দেখানো বাকি! দুই স্পিনার আরাফাত সানি এবং আলিস আল ইসলাম মিলে ভাসিয়ে রাখেন চিটাগংয়ের ভেলা। খুলনার বোলারদের হতাশা বাড়িয়ে নিয়মিত বাউন্ডারি আর প্রান্ত পরিবর্তন করে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকেন তারা।

শেষ ওভারে তবু বড় এক চ্যালেঞ্জই ছিল তাদের সামনে। ৬ বলে দরকার ছিল ১৫ রান। তিন চারের সঙ্গে একটি করে সিঙ্গেল এবং ডাবলে সে হিসাব মেলান চিটাগংয়ের ব্যাটাররা। খুলনার পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ এবং মুশফিক হাসান। তবে তাদের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত বিফলে গেছে চিটাগংয়ের বোলারদের ব্যাট হাতে বীরত্বগাথায়। এর আগে টস জিতে খুলনাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় চিটাগং। দলটির পেসার বিনুরা ফার্নান্দো এবং স্পিনার আলিস আল ইসলাম মিলে শুরু থেকেই খুলনার ব্যাটারদের চাপে রাখেন।

এর মধ্যে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই খুলনার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে (২) বোল্ড করেন বিনুরা। পরের ওভারে আলিসকে ফিরতি ক্যাচ দেন ৬ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে না পারা অ্যালেক্স রস। পাওয়ার প্লে-তে এই দুই উইকেট খুইয়ে ৩০ রানের বেশি তুলতে পারেনি খুলনা।

দলটির ভরসা হয়ে তখনো ক্রিজে ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মোহাম্মদ নাঈম। দর্শনীয় ৪টি চার হাঁকিয়ে খুলনার ইনিংসের হাল ধরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু অষ্টম ওভারে তার স্টাম্প গুঁড়িয়ে দিয়ে সে সম্ভাবনা শেষ করে দেন খালেদ আহমেদ। তাতে ১৯ রানে সাঙ্গ হয় নাঈমের ইনিংস। পরের ওভারে আফিফ হোসেনকে (৮) সাজঘরের পথ চেনান আরাফাত সানি।

৪২ রানে ৪ উইকেট হারানো খুলনাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অঙ্কন এবং হেটমায়ার। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ৭৩ রানের জুটি। উইকেট ধরে রেখে দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখান তারা। ১৮তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩২ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রান করেন অঙ্কন।

এদিকে প্লে-অফের আগে খুলনায় যোগ দেওয়া হেটমায়ার ছিলেন আরও আগ্রাসী ভূমিকায়। ১৯তম ওভারের শেষ বলে সাজঘরের পথ ধরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ৩৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৩ রান। তাদের ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত চিটাগংকে ১৬৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায় খুলনা। চিটাগংয়ের পক্ষে ২৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার করেন বিনুরা।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাতটায় একই মাঠে বিপিএল ফাইনালে ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হবে চিটাগং। এর আগে প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সে ম্যাচ বরিশালের কাছে ৯ উইকেটের বড় হার হজম করতে হয় চিটাগংকে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫,/রাত ১১:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit