রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম

কী আছে পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ৯৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : আটক-গ্রেফতার, তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদের বিধি-প্রবিধান সংশোধন ও পুলিশের দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়াসহ নানা সুপারিশ করেছে পুলিশ সংস্কার কমিশন।  বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া প্রতিবেদনে কমিশন এসব সুপারিশ করেছে।

বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও আহত করার জন্য দোষী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের অতীত কার্যক্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে এর প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করার সুপারিশও করা হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার জোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের বিষয়েও নীতিগতভাবে ঐক্যমত পোষণের কথা বলা হয়েছে সুপারিশে। তবে তা আইনের আওতাভুক্ত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে নাকি সাংবিধানিক কাঠামোভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান হবে, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

উশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে যে সকল প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করা হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ ৫ ধাপে বলপ্রয়োগের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ধাপগুলোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী কর্তৃক বলপ্রয়োগের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রেফতার, তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তি বা রিমান্ডে নেওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি থানায় স্বচ্ছ কাঁচের ঘেরা দেয়া আলাদা কক্ষ রাখার প্রস্তাব এসেছে। নারী আসামিকে শালীনতার সঙ্গে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথাও বলা হয়েছে। তল্লাশির সময় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিতে অস্বীকার করলে বা সার্চ ওয়ারেন্ট না থাকলে জরুরি যোগাযোগের জন্য নাগরিক নিরাপত্তা বিধানে একটি জরুরি কল সার্ভিস চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সদস্যের কাছে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম ও ভিডিও রেকর্ডিং ডিভাইসসহ ভেস্ট বা পোশাক পরার কথা বলা হয়েছে। রাতের বেলায় অর্থাৎ সূর্যাস্ত থেকে সূর্যদয় পর্যন্ত কোনো বাসায় তল্লাশির সময় অবশ্যই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ভুয়া বা গায়েবি মামলায় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য করতে হবে। অজ্ঞাতনামা আসামি দেয়াকে ‘অপচর্চা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সুপারিশে।

পুলিশের দুর্নীতি রোধে ওয়াচডগ বা ওভারসাইট কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে সুপারিশনামায়। বলা হয়েছে, প্রতিটি থানা-উপজেলায় ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গড়ে তোলা যেতে পারে। দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও বলা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেও কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে। কত‌র্ব্যে অবহেলা যেমন জিডি গ্রহণ প্রত্যাখান করলে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ জানুয়ারী ২০২৫,/রাত ১১:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit