শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

আসাদ কি রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে? যা বললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দামেস্ক থেকে পালিয়ে যাওয়া সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এখন মস্কোতে অবস্থান করছেন।

তিনি বলেন, দেশে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া না থাকা এবং রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনের ওপর নির্ভর করাটাই তার পতনকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিলো। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, একটি বর্বর রাষ্ট্রের পতন হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছেন, সিরিয়ার জনগণ মারাত্মক দুর্ভোগ সহ্য করেছে এবং আসাদ সরকারের অবসান একটি দারুণ খবর।

তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসাদ সরকারের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছিলো। এখন ইসলামপন্থীদের নেতৃত্বে সিরিয়ার ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তাদের কিছুটা নার্ভাস করে তুলেছে বলে মনে হচ্ছে।

বর্তমান ঘটনাপ্রবাহে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সিরিয়ার ঐক্য সুরক্ষার আহবান জানিয়েছেন।

তুরস্কে প্রায় ৩০ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী অবস্থান করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, তারা এখন নিজেদের দেশে ফিরতে পারবে।

এদিকে, সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ সোমবারই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভা ডাকার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

অন্য বিশ্বনেতারা যা বললেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আসাদের পতনের মুহুর্তকে ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া, ইরান কিংবা হিজবুল্লাহ কেউ তার সরকারকে রক্ষা করতে পারেনি।

তিনি বলেছেন, আসাদ চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সব গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করবে।

ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি স্থলপথে যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছে। দেশটি বলেছে, সিরিয়ার মানুষকেই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে কোন ধরনের ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ বা বাইরে থেকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া ছাড়াই।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বিদ্রোহীরা যখন দামেস্কের দিকে যাচ্ছিলো তখন ইরান কোনো হস্তক্ষেপের আহবান পায়নি। আমাদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়নি। এটা মূলত সিরিয়ান আর্মির দায়িত্ব। আমরা নিজেরা একে আমাদের দায়িত্ব মনে করিনি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আসাদ সরকারের পতন মানে হলো প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এখন ইউক্রেনের সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়া উচিত।

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আছে। পেন্টাগনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

আরব আমিরাতের একজন সিনিয়র কূটনীতিক আনওয়ার গারগাশ সিরিয়ার সব গোষ্ঠী এখন একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। 

সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের দূত গেইর পেডারসন একটি স্থিতিশীল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

জিহাদি নেতা থেকে বিদ্রোহী রাজনীতিক

সিরিয়ার বিদ্রোহীদের নেতা আবু মোহাম্মেদ আল-জোলানি তার জিহাদি সময়ের নাম বাদ দিয়ে সত্যিকার নাম – আহমেদ আল-শারা ব্যবহার শুরু করেছেন।

অফিসিয়াল যে ঘোষণাপত্র বৃহস্পতিবার থেকে আসাদ সরকারের পতন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে সেখানে তিনি প্রকৃত নামই ব্যবহার করেছেন। একে নতুন পরিস্থিতিতে তার বৈধতাকে আরও জোরদার করার একটি উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তার ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী হায়াত আল-শামের নেতৃত্বেই আরও অন্য বিদ্রোহী দলগুলো দামেস্ক দখল করে সিরিয়ার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। গত কয়েকবছর ধরেই জোলানির এই রূপান্তর সতর্কতার সাথে লক্ষ্য করা হচ্ছিলো।

এক সময় তিনি শুধু জিহাদি জঙ্গিরা পরিধান করে এমন পোশাক পড়লেও গত কয়েক বছরে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকও দেখা যাচ্ছে। জোলানির দৃষ্টিভঙ্গি বৈশ্বিকভাবে আইএস কিংবা আল-কায়েদার মতো জিহাদি আন্দোলন কমে আসার একটি লক্ষণ হতে পারে।

তার গতিপথ অন্য গোষ্ঠীগুলোকেও উদ্বুদ্ধ করতে পারে রাজনৈতিক ও ভূখন্ডগত লাভের জন্য রাজনৈতিক নমনীয় জিহাদিবাদ কিংবা তাদের প্রচলিত পথ থেকে সাময়িকভাবে সরে আসার জন্য।

বিদ্রোহী নেতা জোলানি যা বললেন

দামেস্কের উমায়াদ মসজিদে বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্রোহীদের নেতা আবু মোহাম্মেদ আল-জোলানি। তিনি এইচটিএস গ্রুপের নেতা ও প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন এটা পুরো মুসলিম জাতির একটি জয় এবং এ অঞ্চলের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। সিরিয়ার দীর্ঘ সংঘাতে যারা জীবন দিয়েছেন জোলানি তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দেশটিতে ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো।

তিনি বলেন, আসাদ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও দুর্নীতিকে বিস্তৃত করেছিলেন। জোলানি বলেন, আসাদের অধীনে ‘সিরিয়া ইরানের উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়নের পরিত্যক্ত খেলার মাঠে পরিণত হয়েছিলো। কিন্তু এখন সবাই মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছে বলেছেন তিনি।

জর্ডান ও লেবানন থেকে ফিরছে সিরিয়ানরা

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকেই লেবানন ও জর্ডানে থাকা সিরিয়দের অনেকে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। সেখানকার ছবিগুলোতে তাদের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখা যাচ্ছে।

সিরিয়া-লেবানন সীমান্তে বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা মাসনা ক্রসিংয়ে কয়েক ডজন গাড়ির লাইন দেখতে পেয়েছেন। লোকজন উল্লাস করছিলো ও আসাদ বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিলো।

জর্ডান থেকে আসার জাবের ক্রসিংয়ে এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, গত ১২ বছর আমি জর্ডানে ছিলাম। বাশার আল-আসাদের পতনের খবর শুনে আমরা আবেগাপ্লুত হয়েছি। আমরা সেফটি সিকিউরিটি নিয়ে এখন দেশে ফিরতে পারি। ওদিকে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে থাকা সিরিয়ানরা প্রেসিডেন্ট আসাদের পতনে উল্লাস করছে।

আসাদ পতনের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো

২৭ নভেম্বর: হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস এবং এর সহযোগীরা দেশের উত্তর পশ্চিমে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সরকারের হামলার অভিযোগ করে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়।

৩০ নভেম্বর: সিরিয়ার সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে যে বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর বড় অংশে ঢুকে পড়েছে।

৫ ডিসেম্বর: কয়েকদিনের লড়াইয়ের পর হামা শহরের পতন হয় ও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

৬ ডিসেম্বর: সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহীরা দেরা অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নেয়। এই অঞ্চল থেকেই ২০১১ সালে বাশার বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো।

৭ ডিসেম্বর: বিদ্রোহীরা সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমস দখলের ঘোষণা দেয়।

৮ ডিসেম্বর: ভোরেই বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কে প্রবেশের ঘোষণা দেয়। এর দু ঘণ্টার মধ্যেই তারা ঘোষণা করে যে ‘স্বৈরাচারী বাশার আল-আসাদ পালিয়েছে’।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৯ ডিসেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৪:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit