বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন

কানাডা-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল, ফের উত্তেজনা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৫১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কানাডা ও ভারত একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশ দুটি। দুই দেশের বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন এমন অনেকের মতে, ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও ভারত-কানাডার সম্পর্ক এই মুহূর্তে বেশি খারাপ।

কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ছয়জন ভারতীয় কূটনীতিক ও কনস্যুলার কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে। নিজ্জার হত্যার তদন্তের সঙ্গে এই বহিষ্কারের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে ভারত কানাডার ছয় শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। যাদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তারা কানাডা থেকে তাদের দূত প্রত্যাহার করেছে। এর মাধ্যমে কানাডার দাবিকৃত ভারতীয় দূতকে বহিষ্কারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি।

কানাডা ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয় গত বছর। সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছিলেন, নিজ্জার হত্যায় ভারতীয় গোয়েন্দাদের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে তার কাছে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানায়, তাদের কাছে ভারতের সরকারি এজেন্টদের দ্বারা পরিচালিত ব্যাপক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, যা কানাডায় দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

কানাডা ও ভারতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের প্রভাব দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে, যা কূটনৈতিক আলোচনা ও বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারত প্রধানত কানাডায় রত্ন, গয়না, মূল্যবান পাথর, ওষুধ, তৈরি পোশাক, জৈব রাসায়নিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানি করে থাকে। আর কানাডা থেকে ডাল, নিউজপ্রিন্ট, কাঠের মণ্ড, অ্যাসবেস্টস, পটাশ, লোহার স্ক্র্যাপ, তামা, খনিজ এবং শিল্প রাসায়নিক আমদানি করা হয় ভারতে। দুই দেশের বৈরী সম্পর্কে বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। 

ঘটনাপ্রবাহ: ১৮ জুন ২০২৩: ৪৫ বছর বয়সী হরদীপ সিং নিজ্জারকে সারে শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। সারে ভ্যাঙ্কুভারের একটি উপশহর, সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিখ বাসিন্দা রয়েছেন। নিজ্জার ছিলেন একজন কানাডিয়ান নাগরিক। তিনি ভারতের শিখদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন।

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: কানাডার একজন বাণিজ্য কর্মকর্তা জানান, কানাডা ও ভারতের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। এটি ছিল একটি অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ। যা দুদেশের মধ্যে ২০২৩ সালের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি করার পরিকল্পনার তিন মাস পর নেওয়া হয়েছিল।

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: নয়াদিল্লিতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর কাছে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো পার্লামেন্টে বলেন, কানাডা বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এই তদন্তে নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: ভারত ট্রুডোর এই দাবি ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার করে। কানাডা ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে এবং ভারতও একই ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: ভারত কানাডার নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু করা স্থগিত করে এবং অটোয়াকে ভারতে কূটনৈতিক উপস্থিতি হ্রাস করতে বলে। দুই মাস পর ভারত ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু করে।

১৯ অক্টোবর, ২০২৩: কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি জানান, নিজ্জার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধের মধ্যে কানাডা ৪১ জন কূটনীতিককে ভারত থেকে প্রত্যাহার করেছে।

২৯ অক্টোবর, ২০২৩: ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে হাজার হাজার শিখ নিজ্জারকে হত্যার ঘটনাস্থল একই গুরুদ্বারে একটি অনানুষ্ঠানিক গণভোটে অংশ নেয়। যেখানে তারা ভারতের কাছ থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ভোট দেয়।

২১ নভেম্বর, ২০২৩: ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গুরপাতওয়ান্ত সিং পান্নুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পান্নুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীদের ওপর থাকা হুমকির কথা বলেছিলেন।

২২ নভেম্বর, ২০২৩: বাইডেন প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, মার্কিন কর্তৃপক্ষ পান্নুনকে হত্যার একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে এবং দিল্লি সরকারের জড়িত থাকার সন্দেহে ভারতকে সতর্ক করেছে।

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: কানাডার গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের হাইকমিশনার জানান, কানাডা প্রমাণ হাজির না করা পর্যন্ত নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারত কোনও তথ্য প্রদান করবে না।

৩০ এপ্রিল, ২০২৪: ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে নিজ্জার হত্যাকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পান্নুনকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ এই ঘটনাকে একটি গুরুতর বিষয় হিসেবে অভিহিত করে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুকে ‘অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছিল।

৩ মে, ২০২৪: নিজ্জার হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনের বিরুদ্ধে কানাডার পুলিশ অভিযোগ দায়ের করে বলে এক সূত্র জানিয়েছে। ২৭ আগস্ট, ২০২৪: কানাডার পুলিশ শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গুরপাতওয়ান্ত সিং পান্নুনকে তার জীবনের ওপর নতুন হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২০ অক্টোবর ২০২৪,/রাত ৮:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit