বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার ৪০০ শিশু-কিশোর উদ্ধার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ৮১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার ৪০২ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। তাদেরকে দেশটির সেলাঙ্গর এবং নেগেরি সেম্বিলান প্রদেশের ২০টি কেয়ার হোম থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এসব প্রতিষ্ঠানের ১৭১ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মালয়েশিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক রাজারউদ্দিন হুসাইন।

কেয়ার হোমগুলো একটি ইসলামী সংগঠনের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে, তবে ইসলামী সংগঠনটি কোনও অন্যায়ের সাথে জড়িত নয় জানিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে।

সম্মেলনে রাজারউদ্দিন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে যেসব শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের সবার বয়স এক থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। অপরদিকে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বয়স ১৭ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। 

পুলিশ মহাপরিদর্শক জানান, ওই কেয়ার হোমগুলোতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মীয় আচরণের অংশ দাবি করে শিশুদের স্পর্শ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কিছু শিশুকে তাদের চেয়ে কম বয়সীদের সাথে একই রকম যৌন আচরণ করতে শেখানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, কখনও কখনও শিশুদের যৌনকাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো। তারা রাজি না হলে কোনও গরম বস্তু শরীরে চেপে ধরে রাখতো। এর কোনও চিকিৎসাও করা হতো না, যতক্ষণ না তা গুরুতর আকার ধারণ করতো।

উদ্ধারকৃত শিশু-কিশোরদের রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি পুলিশ সেন্টারে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজারউদ্দিন।

চলতি মাসের শুরুতে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের একটি কেয়ার হোমে শিশু শোষণ, শ্লীলতাহানি এবং যৌন নির্যাতনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশ সেলাঙ্গর এবং নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের ২০টি কেয়ার হোমে বুধবার অভিযানগুলো পরিচালনা করে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামা জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে অনেক শিশুকে তাদের বাবা-মা এসব কেয়ার হোমে রেখেছিলেন যাতে তারা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

এই দাতব্য সংস্থাগুলোকে অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনাগত সহায়তা প্রদান করত মালয়েশিয়াভিত্তিক বহুজাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ইখওয়ান সার্ভিসেস অ্যান্ড বিজনেস (জিআইএসবি)। সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে এই কোম্পানির। মালয়েশিয়া ছাড়াও বিভিন্ন দেশে জিআইএসবির শাখা রয়েছে।

শিশু শোষণের অভিযোগে জিআইএসবি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত শুরু করার কয়েকদিন পরেই এই অভিযান চালানো হয়।

জিআইএসবি বুধবার ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, কোম্পানি আইনের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনও কার্যকলাপের সাথে আপস করে না, বিশেষ করে শিশুদের শোষণের বিষয়ে।

মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশন ওয়েলফেয়ার হোমগুলোতে কঠোর প্রবিধানের আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: বিবিসি

কিউএনবি/অনিমা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪,/রাত ১১:১১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit