ডেস্ক নিউজ : কহিনুর বেগম। মাদারীপুরের কালকিনির করিম খানের হাট এলাকার বাসিন্দা। আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে একে একে তিনবার হারিয়েছেন বসতঘর। কখনও পাননি সরকারি কোনো সহযোগিতা। এতে ক্ষুব্ধ তিনি। অসুস্থ স্বামী আর সন্তান নিয়ে অন্যত্র বসবাস করলেও কাটছে না আতঙ্ক।
এ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাননি আন্ডারচরের চা দোকানি মন্টু বেপারী। আর নতুন চর দৌলতখান এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ভাঙন। সেই সঙ্গে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার। আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে এরইমধ্যে বিলীন হয়েছে রাস্তাঘাট, একের পর এক ফসলি জমি। তবুও ভাঙ্গন রোধে নেই দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম। ঝুঁকিতে ডাকঘর, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ বহু স্থাপনা। আড়িয়াল খাঁ নদে কয়েকটি গ্রাম বিলীনের আশঙ্কা স্থানীয়দের। এজন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে কালকিনি উপজেলায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকা আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনের শিকার হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়েছেন অর্ধশত মানুষ। ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সিডিখান, রমজানপুর, সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, নতুন চর দৌলতখান, মিয়ারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম বলেন, ‘একে একে তিনবার ঘরবাড়ি হারিয়েছি। আবারও ভাঙন ঝুঁকিতে। কিন্তু একবারও সরকারের কোনো সহযোগিতা চোখে দেখিনি। এমতাবস্থায় এ এলাকার একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’চা দোকানি মন্টু বেপারী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে শুধু দেখছি আড়িয়াল খাঁ ভাঙছে। প্রতিবছর ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও রাস্তাঘাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এতে বহুমানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা ছাড়া এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়।’
কালকিনির ৪৯ নম্বর নতুন চর দৌলতখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে আড়িয়াল খাঁ নদটি খুব কাছে। নদের স্রোতের তীব্রতা বাড়লে যেকোন সময় বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যেতে পারে। এজন্য একটি বেড়িবাঁধ প্রয়োজন।’মাদারীপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খান বলেন, ‘ভাঙনরোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প দুটির অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। তখন আর এসব এলাকার মানুষ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’
কিউএনবি/আয়শা/৩০ অগাস্ট ২০২৪,/দুপুর ১২:৩৪